মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা বাহাদুরপুরে দেওয়া একটি ইফতার মাহফিলে বলেন, ‘আমি হানজালা খোঁচাখুঁচি করলে এ দেশে বিএনপি থাকতে পারবে না’, এ ধরনের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র আলোচনায় পরিণত হয়।
ঘটনাটি গত শুক্রবার কুয়েত রিলিফ সোসাইটি ও বাংলাদেশ উন্নয়ন সমিতির আয়োজনে বাহাদুরপুর মাঠে অনুষ্ঠিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে ঘটে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানে নেওয়া একটি চার মিনিট ২২ সেকেন্ডের ভিডিও হানজালার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে রাতেই শেয়ার করা হয় এবং মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি নিয়ে নানা মতপ্রকাশ ও সমালোচনা শুরু হয়।
ভিডিওতে হানজালা শিবচর উপজেলা বিএনপি’র নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনারা (বিএনপি) শিবচর নিয়ে রাজনীতি করুন, আমি পুরো বাংলাদেশ নিয়েই রাজনীতি করি। আমি শান্তি চাই; আমার চুপ থাকা দুর্বলতা নয়।’ তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর তার নেতৃত্বের কেউ কাউকে হুমকি-ধমকি দেয়নি, বিদেশি, স্থানীয় ও বিভিন্ন স্তরের মানুষের সমর্থনে তিনি জিতেছেন এবং তাই রাজনৈতিকভাবে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে চান।
ভিডিওতে হানজালা তেমনকিছু ব্যক্তির সামাজিক মাধ্যমে লেখালেখি ও কঠোর ভাষার কটাক্ষের কথাও তুলে ধরেন এবং বলেন, তিনি শিবচরের মানুষের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছেন—যারা তার নামে লিখবে, সেই স্বাধীনতাই তিনি দিয়েছেন।
বক্তব্য সংক্রান্ত প্রশ্নে হানজালা বলছেন, তার মন্তব্যে দেশের সর্বত্র বিএনপিকে উদ্দেশ্য করা হয়নি; তিনি মূলত শিবচর উপজেলা বিএনপিকেই বোঝাতে এই কথাগুলো বলেছেন। তিনি দাবি করেন, কিছু মানুষ তার কথাগুলো কেটে কেটে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। এছাড়া তিনি বলেন, বিএনপির নাদিরা আক্তার নামের এক নেত্রী এক অনুষ্ঠানে তাকে উদ্দেশ্য করে জানিয়েছেন যে তিনি বিএনপিকে নিয়েই খোঁচাখুঁচি করেন—সেই মন্তব্যের প্রতিবাদগত প্রেক্ষাপটেই তিনি প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।
শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ সোহেল রানা এই মন্তব্যকে তীব্র আপত্তিকর হিসেবে দেখেন। তিনি বলেন, হানজালা ও তার পরিবারের আচরণ শিবচরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অস্বাভাবিক করবার চেষ্টা করছে; আশা করা হচ্ছে তিনি তার বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন এবং উপজেলা বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ করবেন।
প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা বিএনপি প্রার্থী নাদিরা চৌধুরীকে পরাজিত করে জয়ী হন—মাত্র ৩৮৫ ভোটে, যা দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম ভোট ব্যবধানে জেতার ঘটনা হিসেবে নজিরবিহীন। তিনি হাজী শরীয়ত উল্লাহ (র:)–এর সপ্তম পুরুষ।





