সোমবার, ১৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রোমাঞ্চের ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

তৃতীয় ও নির্ধারণী ওয়ানডেতে মাত্র ১১ রানে হারানো দৃশ্যকেই রোমাঞ্চকর করে রেখে পাকিস্তানকে পরাজিত করে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। ২৯১ রানের লক্ষ্যে শুরুতেই পাকিস্তানের ব্যাটিং ভেঙে দেন বাংলাদেশের পেস আক্রমণ। এরপরই একাই টান পড়েন সালমান আলি আগা, তিনি দলকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন। কিন্তু শেষের দিকে কড়া প্রতিরোধ করতে না পেরে পাকিস্তান ২৯০/…? নয়—সত্যিকারেই ১১ রানে হার মেনেছে বাংলাদেশকে পরাজিত না করতে পেরে। তবু শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় জয় মেলে বাংলাদেশকে এবং সিরিজ নিজেদের করে নেয় মেহেদি হাসান মিরাজরা।

এই জয়ে বাংলাদেশকে ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ধারাবাহিক সিরিজ জয়ের রেকর্ড গড়তে দেখা গেছে — শেষবার তারা ২০১৫ সালে পাকিস্তানকে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে হোয়াইটওয়াশ (৩-০) করেছিল।

রান তাড়া শুরু হওয়া ম্যাচে খুব দ্রুতই পাকিস্তানের তিন শুরুর উইকেট হারানো তাদের পিছনে ফেলে দেয়। তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার ঝড়ের মুখে মাত্র ১৭ রানের মধ্যে প্রথম তিনটি উইকেট পড়ে। ইনিংসের প্রথম ওভারেই তাসকিন সাহিবজাদা ফারহানকে (৬) সাজঘরে পাঠান, পরের ওভারে নাহিদ মাজ সাদাকাতকে (৬) ফেরান, আর তাসকিনের দ্বিতীয় ওভারে রিজওয়ান (৪) আউট হন।

দলের বিপর্যয়ে গাজি ঘুরি ও আব্দুল সামাদ লড়াইয়ে নামলেও তারা বড় সংগ্রহ গড়তে পারেননি—ঘুরি ৩৯ বল খেলেও ২৯ রানে আউট হন, আর সামাদ ৪৫ বলে ৩৪ রান করেন। একশর আগেই পাকিস্তান ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে; তখনই সালমান আলি আগা এগিয়ে এসে দলের হাল ধরেন। তাঁর সঙ্গে সাদ মাসুদের জুটি উদ্বেগ কমায়, কিন্তু ওই জুটিও ৭৯ রানে ভেঙে যায় যখন মুস্তাফিজুর রব আবিষ্কারী ডেলিভারিতে সাদ মাসুদকে ৩৮ রানে বোল্ড করে ফেরান। সালমান শেষ পর্যন্ত শুরু থেকে লড়াই করে থাকলেও দলের জয়ের কাজ শেষ করতে পারেননি।

ক্রান্তিকালে ম্যাচে তাসকিন আহমেদ ছিলেন অত্যন্ত কার্যকর—ইনি একাই চারটি উইকেট তুলে নেন এবং পাকিস্তানের শুরুটা পুরোপুরি ধ্বংস করেন। পাকিস্তানের পক্ষে হারিস রউফ সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন, আর আবরার ও শাহীন শাহ আফ্রিদি একটি করে উইকেট নেন।

এর আগে মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করতে পাঠান পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি। ব্যাটিং শুরুতেই উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১০৫ রানের ঝড়ো শুরু। সাইফ (৫৫ বলে ৩৬) ১৯তম ওভারে শাহীনের বলে আউট হন। নজমুল হোসেন শান্ত সেভাবে ইনিংস বড় করতে পারেননি এবং হারিস রউফের বলে ২৭ রানে ফিরে যান।

ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের কাছেই আসে বিশেষ সাফল্য: মাত্র ৯৮ বল খেলে তিনি ক্যারিয়ারসেরা থ্রি-ডিজিটাল ইনিংস করে ১০৭ রানে অপরাজিত ছিলেন না, তবে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি উদযাপন করেছেন—তিনি ৪৭ বলেই ফিফটি করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত ১০৭ বলে ১০৭ রান করে ফিরেন; ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৭টি ছক্কা। লিটন কুমার দাস ও তাওহিদ হৃদয়ের চতুর্থ উইকেটে ৬৮ রানের জুটিও দলের বড় সংগ্রহে সাহায্য করে। লিটন ৪১ রান করেন, আর রিশাদ হোসেন প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে আউট হন।

বাংলাদেশের ইনিংসের শেষ অংশে তাওহিদ হৃদয় অপরাজিত থেকে ৪৪ বলে ৪৮ রান করেন এবং আফিফ অল রাউন্ড পারফরম্যান্স দেখিয়ে ৫ রানে অপরাজিত থাকেন। পাকিস্তানের পক্ষে হারিস রউফ তিনটি উইকেট নেন, আবরার ও শাহীনরা একটি করে উইকেট নেন।

শেষ মিলিয়ে টানা লড়াই, রুদ্ধশ্বাস শেষ মুহূর্ত এবং পেসারদের নির্ভুল বোলিং—এসব মিলিয়ে বাংলাদেশ অনুষ্ঠেয় সিরিজ জয় নিশ্চিত করল।