মঙ্গলবার, ১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ক্রেডিট কার্ড গাইডলাইন হালনাগাদ: সর্বোচ্চ ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ

বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত নীতিমালা হালনাগাদ করে একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন জারি করেছে, যার উদ্দেশ্য ব্যাংকের কার্ড পরিচালনা কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করা। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এই তথ্য জানিয়েছেন।

দৈনন্দিন কেনাকাটা ও বিভিন্ন বিল পরিশোধে নগদ বহন না করে কার্ড ব্যবহার বাড়ায় এই খাতে নীতিগত স্পষ্টতার প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে পূর্বের নীতিমালা পর্যালোচনা করে নতুন গাইডলাইনে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার, ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত এবং দায়িত্বশীল ঋণদানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। গাইডলাইনের মাধ্যমে নগদবিহীন লেনদেনের জন্য একটি স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য।

গাইডলাইনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, ক্রেডিট কার্ডের ধরন, গ্রাহকের যোগ্যতার মানদণ্ড, ক্রেডিট সীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন নীতি, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা ও অধিকার সুরক্ষা, বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা বিধি। এসব বিষয় রাখা হয়েছে যাতে কার্ড প্রদানকারীরা সুষম ঝুঁকি নিয়ে পরিষেবা দিতে পারে এবং গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা করা যায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর মধ্যে এক হলো ঋণসীমা বৃদ্ধি। আগের সর্বোচ্চ ঋণসীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা; নতুন গাইডলাইনে এটি বাড়িয়ে ৪০ লাখ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি অনিরাপদ (অস্তিত্ব নেই এমন বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ) ঋণের সীমাও আগে ১০ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় গ্রাহকের অভিযোগ, অনিয়ম, জালিয়াতি বা কার্ড ব্যবহার সংক্রান্ত লেনদেন পরিশোধে যে জটিলতা দেখা দিত, সেগুলো অনুসন্ধান করে বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় সংশোধন আনা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্ত করে কার্ডঝোঁকী ঝুঁকি কমানো এবং গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করাও নির্দেশিকার একটি বড় অংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এই হালনাগাদ গাইডলাইন কার্যকর হলে ক্রেডিট কার্ড খাতে প্রতিষ্ঠানগুলোর অপারেশন আরও নিয়ন্ত্রিত হবে, গ্রাহকের অধিকার রক্ষিত থাকবে এবং নগদবিহীন আর্থিক লেনদেন অভিজ্ঞতা আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য হবে।