বুধবার, ১৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশ কেন বিশ্বকাপ খেলতে গেল না, তদন্ত করবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়

চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অনুপস্থিতির কারণ খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জানিয়েছেন, মিরপুরের এক অনুষ্ঠানের পরে সোমবার (১৭ মার্চ) এই তদন্ত আহ্বানের তথ্য তিনি সাংবাদিকদের সামনে প্রকাশ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ক্রীড়া কূটনীতির ঘাটতি এবং অন্যান্য জটিলতার কারণে দেশটি এই গুরুত্বপূর্ণ আসরে অংশ নিতে পারেনি। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ কারণ অনুসন্ধানের জন্য মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও সংশ্লিষ্ট অংশগ্রহণকারীদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, তারা ইতিমধ্যে শোনা অভিযোগ ও ব্যাখ্যা গ্রহণ করেছেন এবং তদন্ত থেকে উঠে আসা ফলাফলকে ভিত্তি করে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আশা করছেন কমিটি পুরো ঘটনা স্পষ্ট করে দেবে — কেন দল পাঠানো হয়নি, কোথায় ঘাটতি ছিল ও কবে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল।

জানানো হয়েছে, টুর্নামেন্টটি ভারতে অনুষ্ঠিত হলেও বিসিবি নিরাপত্তা এবং অন্যান্য উদ্বেগকে কারণ দেখিয়ে দল পাঠাতে অনুপম্ময় জানিয়েছিল। তখনকার ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সঙ্গে একাধিক আলোচনার পরও ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ স্বীকৃতি পায়নি এবং শেষপর্যন্ত আইসিসি বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে জায়গা দেয়।

এ ঘটনায় কিছু ক্রিকেটারের আইপিএল বাদ পড়ার ঘটনা—বিশেষত মুস্তাফিজুর রহমানের ব্যাপার—সহ নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগও ছিল বলে সংবাদে ছিল। এসব সিদ্ধান্ত ক্রিকেটারদের এবং বোর্ডের মধ্যে ফাটল তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করা হচ্ছে।

ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) বিসিবির ওই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে আসছিল। সম্প্রতি কোয়াবের নেতৃত্বে এক ক্রিকেটারদল প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করে তাদের উদ্বেগ ও দাবি তুলে ধরে। আমিনুল হক জানিয়েছেন, তিনি তাদের কথা শুনেছেন এবং তদন্তের পর তাদের উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।

আপাতত বিশ্বকাপ অনুপস্থিতি নিয়ে আলাদা কমিটির পাশাপাশি বিসিবি নির্বাচন সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও তদন্ত চলছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ইতিমধ্যেই এর জন্য একটি পৃথক তদন্তকমিটি গঠন করেছে, যা নিয়ে বোর্ডও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতবৎ সময়ে বোর্ডে সরকারের হস্তক্ষেপ ছিল—এ সংক্রান্ত ঘটনাগুলোও তদন্তে উঠে আসবে। তদন্তে পুরনো নির্বাচন কমিশনের সদস্য, বর্তমান বোর্ড কর্মকর্তা এবং অভিযোগকারী সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

শেষ কথা হিসেবে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, এসব তদন্তের মাধ্যমে ক্রিকেটে স্বচ্ছতা ফেরানো এবং খেলার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করাই মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য। আইসিসির সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।