ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ছাড়ার ভিড় বেড়ে যাওয়ায় ঢাকা–টাঙ্গাইল–যমুনা সেতু মহাসড়কে গত ৪৮ ঘণ্টায় যানবাহনের চাপ ঊর্ধ্বগতি হয়েছে। সেতু দিয়ে রেকর্ডসংখ্যক যানবাহন পারাপারের ফলে প্রায় ৬ কোটি ৪৪ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত রবিবার (১৫ মার্চ) রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৪৮ ঘণ্টায় ৮২,৬০১টি যানবাহন সেতু অতিক্রম করেছে। এ সময় মোট টোল আদায় দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৪৪ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকায়। এর মধ্যে শুধুমাত্র সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৪ হাজার ৬৫০ টাকা।
বিগত ২৪ ঘণ্টার উপাত্ত অনুযায়ী উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের সংখ্যা ছিল ২৭,৪৯৮টি, যেগুলো থেকে টোল এসেছে ১ কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৫০ টাকা। অন্যদিকে ঢাকাগামী ১৯,৪৪৫টি যানবাহন থেকে আদায় হয়েছে ১ কোটি ৬৬ লাখ ৪ হাজার ৮০০ টাকা। এই সগৌরবোড় বাড়তি গতিতে টোল আদায় বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ ঈদযাত্রার চাপ ও মানুষের বাড়ি ফেরা বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলের পর সরকারি ছুটি শুরু হতেই মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা অনেকগুণ বেড়ে যায়। তবু বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল পর্যন্ত বড় কোনো পরিবহনজট দেখা যায়নি। গাজীপুর থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত চারলেনের সুবিধা থাকায় যাত্রীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। যদিও এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার অংশে যানজটের আশঙ্কা ছিল, তখনও পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক ছিল।
গাড়ির অতিরিক্ত চাপ সামলাতে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, টোল প্লাজায় যাত্রীদের জটলা এড়াতেই বুথ সংখ্যা ৯টি থেকে বৃদ্ধি করে ১৮টি করা হয়েছে। এছাড়া মোটরসাইকেল চালকদের সুবিধার জন্য সেতুর দুই পাশে আলাদাভাবে দুটি করে বিশেষ বুথ স্থাপন করা হয়েছে, যাতে তারা দ্রুত পার হতে পারে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে যমুনা সেতু উদ্বোধনের পর থেকেই টোল সংগৃহীত হচ্ছে। বর্তমানে টোল আদায়ের দায়িত্বে রয়েছে নেটওয়ার্ক (সিএনসি) চায়না রোড ব্রিজ করপোরেশন। ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের নিরাপদ ও দ্রুত যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ সতর্কতা ও তদারকি অব্যাহত রাখছে।





