শনিবার, ২১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ক্রেডিট কার্ডে ঋণসীমা বাড়িয়ে নতুন গাইডলাইন জারি

বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড পরিচালনাকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করতে নতুন গাইডলাইন জারি করেছে। এতে ঋণসীমা বৃদ্ধির পাশাপাশি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা ও বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রোববার এই তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।

দৈনন্দিন জীবনে নগদ বহনের বিকল্প হিসেবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ব্যবহার ও সেবার পরিধি প্রসারিত হওয়ায় ক্রেডিট কার্ড খাতে বিদ্যমান জটিলতা কমানো এবং নতুন নিয়ম-কানুন সর্বজনীন করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পূর্বের নীতিমালা হালনাগাদ করে পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় মূলত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করা, দায়িত্বশীল ঋণপ্রদানকে উৎসাহিত করা এবং নগদবিহীন লেনদেনের জন্য স্বচ্ছ পরিবেশ গড়ে তোলায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গাইডলাইনে গাইডলাইনের প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, ক্রেডিট কার্ডের প্রকারভেদ, গ্রাহকের যোগ্যতার মানদন্ড, ঋণসীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন নীতিমালা, বিলিং ও আদায় পদ্ধতি, গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা ও অধিকার সুরক্ষা, বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা সংযোজিত হয়েছে।

নির্দেশনায় ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিতরণযোগ্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা বাড়ানো হয়েছে—আগে যেখানে সর্বোচ্চ ঋণসীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা, তা বাড়িয়ে এখন ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনিরাপদ ঋণের (অহিতকর-জরিমানা বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ) সীমা ১০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া গ্রাহকের অভিযোগ, অনিয়ম-জালিয়াতি ও লেনদেন পরিশোধে সমস্যাসহ বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী যুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে নতুন এই নির্দেশনা কার্যকর হলে ক্রেডিট কার্ড খাতে পরিষেবা মান উন্নত হবে, গ্রাহকের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং নগদবিহীন লেনদেন আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ হবে।