রবিবার, ২২শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জামায়াত–এনসিপি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিএনপি এমপি মনিরুল হক চৌধুরী

রবিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াত ও এনসিপি নিয়ে খোঁজখবরমূলক মন্তব্য করেন বিএনপি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরও একটা মেধাবী অংশ গঠন করেছিল জাসদ; পরে কিছু বাড়াবাড়ির ফলে দেশ ও জাতি যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেটি পুরোপুরি অগ্রাহ্য করা যায় না। এমন সময়ে আমাদের সকলের জন্য তিনি এক অন্তর্যামী কামনা জানান—‘‘আল্লাহ আমাদের যেন সবকিছু হজম করার তৌফিক দেন।’’

মনিরুল হক চৌধুরী বেগম খালেদা জিয়ার নাম স্মরণ করে বলেন, ১৯৯১ সালের সংসদে তিনি নিজে তাদের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কঠোর অবস্থান সত্বেও কখনো দলগত রাজনীতি ছেড়ে দেননি। তিনি দলের অভ্যন্তরে যারা প্রশ্ন করেন তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশে যেন ১৫-২০ বছর বিএনপির অবস্থা ছিল না—এই মনোভাব ঠিক নয়; দেশনেত্রীর সেই নীতি ও অবদানের কথাও অনুধাবন করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, সংসদে দাঁড়িয়ে কখনো কখনো ভয় হয় বলে অনুভব করেন—আগে যাদের বিরুদ্ধে কথা বলতাম, তাদের চিনতাম; আজকের বিরোধীদের কেউ কেউ এখনও চিনিনা। তারেক রহমানের কথার উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘‘আমাদের নেতা বলেছিলেন—কঠিন নির্বাচন। তখন অনেকে বোঝেনি, পরে নির্বাচন করে আমরা বুঝেছি কতটা কঠিন পরিবেশ পেরোতে হয়েছে।’’

এছাড়া তিনি দাবি করেন, এত সংখ্যক সদস্য নিয়ে সংসদে আসার পর আলহামদুলিল্লাহ বলা উচিত ছিল জামায়াতে ইসলামীর মতো সংগঠনের কথাও মনে রাখা। কিন্তু আজ চারপাশে তাদের সম্পর্কে নানা প্রশ্ন ওঠছে—কিছু জীবিত মুক্তিযোদ্ধার ভূমিকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, এমনকি মুক্তিযুদ্ধকে অন্য কোনো ঘটনার সঙ্গে এক কাতারে আনা হচ্ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

শেষে তিনি বলেন, ‘‘যদি কোনো সময় ফ্যাসিস্ট শাসনামলে বিচারের নামে অন্যায় করা হয়ে থাকে, সেটা আলাদা বিষয়।’’ মহান সংসদকে এই প্রশ্ন রেখে তিনি জামায়াত ও এনসিপি সম্পর্কে একটি ব্যক্তিগত মতও জানান—স্বাধীনতার পরে বা এনসিপির মতো কিছু সংগঠনের নেতা-প্রতিনিধির বয়স কম হলেও তিনি তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কারণ তারা সাহসী এবং বর্তমান যুগের দাবি মেটায়।