সোমবার, ২৩শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ক্রেডিট কার্ডের ঋণসীমা বাড়ল, নতুন গাইডলাইন জারি

বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড পরিচালনা আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করার লক্ষ্যে একটি হালনাগাদ গাইডলাইন জারি করেছে। রোববার ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এই তথ্য জানান।

দৈনন্দিন ক্ষুদ্র ও বড় খরচের জন্য নগদ বহন না করে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ায় এবং সেবার পরিধি সম্প্রসারিত হওয়ায় পূর্বের নীতিমালা আপডেট করে পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন গাইডলাইনের লক্ষ্য—ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, গ্রাহক অধিকার নিশ্চিত করা, দায়বদ্ধ ঋণপ্রদান উৎসাহিত করা এবং নগদবিহীন লেনদেনের জন্য একটি স্বচ্ছ পরিবেশ গড়া।

গাইডলাইনে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে গাইডলাইনের প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, ক্রেডিট কার্ডের শ্রেণিবিভাগ, গ্রাহকের যোগ্যতার মানদণ্ড, ঋণসীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন পদ্ধতি, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা ও অধিকার সুরক্ষা, বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

গাইডলাইনে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে প্রদেয় সর্বোচ্চ ঋণসীমা বাড়িয়ে ২৫ লাখ টাকার পরিবর্তে এখন ৪০ লাখ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনিরাপদ (আনসিকিউরড) ঋণের সর্বোচ্চ সীমাও ১০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে গ্রাহকদের জন্য লেনদেনের সুবিধা বাড়বে, তবে ব্যাংকগুলোকে যথাযথ ঝুঁকি মূল্যায়ন ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবনায় গ্রাহক অভিযোগ, অনিয়ম বা জালিয়াতির প্রতিকার, কার্ডভিত্তিক লেনদেন পরিশোধে তৈরী জটিলতা ও বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া সংশোধন করে আরও কার্যকর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ফলে গ্রাহকরা দ্রুত ও সহজে অভিযোগ দাখিল করতে পারবে এবং বিবাদ সমাধানের পথ সুগম হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এবারের গাইডলাইন বাস্তবায়ন হলে ক্রেডিট কার্ড খাতের শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং নগদবিহীন অর্থচলাচলের প্রবণতা আরো স্থিতিশীলভাবে বৃদ্ধি পাবে।