মঙ্গলবার, ২৪শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পিএসএলে যুদ্ধের ছায়া: মুস্তাফিজদের ভেন্যু বদল, দর্শকবিহীন আয়োজন

মুস্তাফিজুর রহমানসহ বাংলাদেশের ছয় ক্রিকেটার আগামী পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলতে যাচ্ছেন। তবে টুর্নামেন্টকে ঘিরে কয়েকটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে — মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা ও সরবরাহগত সমস্যার কারণে ভেন্যু ও দর্শকসংক্রান্ত পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী পিএসএল চলবে ২৬ মার্চ থেকে ৩ মে, পাকিস্তানের ছয়টি শহরে — করাচি, লাহোর, মুলতান, পেশোয়ার, ফয়সলাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে মোট ৪৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধ-সংক্রান্ত প্রভাব, জ্বালানি ও গ্যাস সরবরাহের সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির ফলে যাতায়াত ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনা করে টুর্নামেন্টের পরিধি সংকুচিত করে শুধুমাত্র করাচি ও লাহোরে ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দর্শকশূন্য মাঠে খেলা হবে এবং জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।

পিসিবি প্রেসিডেন্ট মহসিন নাকভি বলেন, “প্রতিদিন ৩০ হাজার দর্শক স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে আসতে পারেন; এত মানুষের চলাচল আমরা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারি না। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যতদিন চলমান সংকট থাকবে, খেলায় দর্শক রাখব না। এটি কঠিন সিদ্ধান্ত, কিন্তু এভাবেই আগাতে হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়েছে।”

টুর্নামেন্টের সূচি বড়সড়ভাবে বদলেনি, কেবল মাঠ বদলেছে। ২৬ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম ১৪টি ম্যাচ লাহোরে অনুষ্ঠিত হবে; তার পরবর্তী পর্যায়ে ১৫টি ম্যাচ হবে করাচিতে; এবং ২১ এপ্রিল থেকে পিএসএল আবার লাহোরে ফিরে যাবে। কোয়ালিফায়ার রাউন্ড originally রাওয়ালপিন্ডিতে হওয়ার কথা থাকলেও তা সরিয়ে ২৮ এপ্রিল করাচি ও লাহোরে অনুষ্ঠিত হবে। ফাইনাল নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ মে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে।

টার্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ ২৬ মার্চে: মুস্তাফিজুর রহমান ও পারভেজ ইমন খেলছেন লাহোর ক্যালান্দার্স ও হায়দরাবাদ কিংসমেনের হয়ে মুখোমুখি হবেন।

বাংলাদেশের বাকি চার ক্রিকেটারের মধ্যে নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম এবং তানজিদ হাসান তামিম পেশোয়ার জালমির হয়ে খেলবেন; তাদের প্রথম ম্যাচ নির্ধারিত আছে ২৮ মার্চ—রিশাদ হোসেনের নেতৃত্বে রাওয়ালপিন্ডির বিরুদ্ধে।

সংকটকে সামনে রেখে এই কঠিন কিন্তু প্রয়োজনে পরিবর্তনগুলো নেওয়া হয়েছে যাতে টুর্নামেন্ট সময়মতো সম্পন্ন করা যায় এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও লজিস্টিক কৌশল বজায় রাখা যায়।