মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান পাঁচদিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পরে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচা তেলের মূল্য ব্যাপকভাবে পড়ে গেছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (২৩ মার্চ) গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১১টা ৮ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বা আনুমানিক ১৭ ডলার কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলারে নেমে আসে। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচারস দর প্রায় ১৩ ডলার বা ১৩.৫ শতাংশ কমে ৮৫.২৮ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল।
ট্রাম্প নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘‘আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের মধ্যকার শত্রুতা পূর্ণ ও সার্বিক সমাধানের পথে অনেক দূর এগিয়েছে।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘তেহরানের সঙ্গে এই গভীর, বিশদ এবং গঠনমূলক আলোচনার আলোকে—যা সপ্তাহজুড়ে চলবে—আমি যুদ্ধ মন্ত্রণালয়কে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছি।’’
অন্যদিকে ইরানি গণমাধ্যম ফার্স নিউজে নাম না প্রকাশের শর্তে এক সরকারি কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো সরাসরি বা পরোক্ষ যোগাযোগ হয়নি। ওই কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ‘‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি, এমনকি কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমেও নয়।’’ তিনি আরও বলেন, এমন একটি সতর্কবার্তা পাওয়ার পরে ট্রাম্প পিছু হটেছেন যে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চল এবং ইসরায়েলের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাতে পারে। এই দাবিটি ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
বিশ্ববাজারে দাম পড়ার পেছনে মূলত নিরাপত্তা সংশয় ও সরবরাহ-আশঙ্কা কাজ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ—সৌদি আরব, ইরাক, আরব সংযুক্ত আমিরাত ও কুয়েত—অল্প কিছু উৎপাদন কমিয়েছে। তাছাড়া ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে বলে উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়ায় জাহাজ চলাচল ও তেল পরিবহনে অনিশ্চয়তা বেড়ে গেছে, যা বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করেছে।
টানাদের শুরুর দিকে ব্রেন্টের দাম এক সময় ব্যারেলপ্রতি ১১৯.৫০ ডলারের কাছাকাছি এবং ডব্লিউটিআই প্রায় ১১৯.৪৮ ডলারে উঠেছিল; পরে পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হয়ে দাম কমে আসে।
সূত্র: আলজাজিরা





