বৃহস্পতিবার, ২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জামায়াত ও এনসিপি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মনিরুল হক চৌধুরি

জাতীয় সংসদের ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় জামায়াত ও এনসিপি নিয়ে তীব্র কথাবার্তা বলেছেন বিএনপির সাংসদ মনিরুল হক চৌধুরী। রোববার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস এবং সাম্প্রতিক বিতর্ক নিয়ে মন্তব্য করেন।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার পর এক সময় এক মেধাবী তরুণ শ্রেণি এসেছে, যারা জাসদ (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল) গঠন করেছিল; কিন্তু অতিরঞ্জনের ফলে তা দেশের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। তিনি ভাষায় যোগ করে বলেন, আমাদের উচিত সবকিছু ধৈর্য ও বোদ্ধামূলক দৃষ্টিতে উপলব্ধি করার তৌফিক কামনা করা।

তিনি বিশেষভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা স্মরণ করে বলেন, ১৯৯১ সালের সংসদে তিনি দলের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং তখন দেশের স্বার্থে বেগম খালেদা জিয়া অনেক প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে জামায়াতের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখেছিলেন। মনিরুল হক চৌধুরী বললেন, কিছু লোক যেন মনে করেন যে গত পনেরো-বিশ বছর দেশে বিএনপি ছিল না; আসলে দেশনেত্রীর সেই ভূমিকা ভোলা উচিত নয়।

সাংসদ বলেন, এখনকার রাজনৈতিক পরিসরে কখনো কখনো তিনি কষ্ট পান—কোন ভাষায় কথা বলবেন তা বুঝতে পারেন না; কারণ, আগে যাদের বিরুদ্ধে কথা বলতেন তাদের চিনতেন, কিন্তু আজকার বিরোধীদলকে তিনি সেভাবে চেনেন না। তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমান যে সময় কঠিন নির্বাচনের কথা বলেছিলেন অনেকেই তখন তা বুঝছিলেন না, পরে নির্বাচনের বাস্তবতা প্রকাশ পেলেই বোঝা গেছে কতটা কঠিন ছিল।

মনিরুল হক চৌধুরী আরও বলেন, এত বড় সংখ্যায় সংসদে আসার পর কৃতজ্ঞতা জানাতে যাদের কথা প্রথম আসা উচিত তারা হচ্ছেন জামায়াতে ইসলামির নেতারা; তবু আজকার বিতর্কে আমাদের সম্পর্কে প্রশ্ন উঠছে—বিশেষ করে যারা মুক্তিযোদ্ধা জীবিত আছেন তাদের সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করা হচ্ছে, এবং মুক্তিযুদ্ধকে অন্য কোনো ঘটনার সমকক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করা গেলেই সেটি অগ্রহণযোগ্য।

রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি স্বাধীনতার পরের তরুণ নেতাদেরও শ্রদ্ধা জানান, বিশেষত এনসিপির যেসব নেতারা কমবয়সী হলেও সাহসী ভূমিকা নিয়েছেন—এদের প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানান। সংসদে তার ভাষণ ছিল ইতিহাসের বিচার, রাজনৈতিক নৈতিকতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশের মিশ্রিত আবেদন।