বৃহস্পতিবার, ২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ক্রেডিট কার্ড গাইডলাইনে বদল: ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ

ব্যাংকিং খাতে ক্রেডিট কার্ড পরিচালনা আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করতে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন গাইডলাইন জারি করেছে। রোববার এই তথ্য জানান ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।

দৈনন্দিন ব্যয় ও মূল্যপরিশোধে নগদের বিকল্প হিসেবে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বাড়ায় কার্যক্রমের জটিলতা কমাতে এবং নতুন সুযোগ-সুবিধা যোগ করতে আগের নীতিমালা হালনাগাদ করে পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা ধার্য করা হয়েছে। গাইডলাইনের মূল লক্ষ্য— ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, ভোক্তার অধিকার রক্ষা, দায়িত্বশীল ঋণদান উৎসাহিত করা এবং নগদবিহীন লেনদেনের জন্য স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করা।

নতুন নির্দেশনায় ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত বিস্তৃত বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে— গাইডলাইনের প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, কার্ডের ধরন, গ্রাহকের যোগ্যতার মানদণ্ড, ঋণসীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন পদ্ধতি, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা ও অধিকার রক্ষা, বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন পরিবর্তন হলো ঋণসীমার বাড়তি খাতা— আগে যেখানে সর্বোচ্চ ক্রেডিট সীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা, নতুন গাইডলাইনে তা বাড়িয়ে ৪০ লাখ টাকা করা হয়েছে। অনিরাপদ (আনসিকিউর্ড) ঋণের সীমাও ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া গ্রাহকের অভিযোগ, অনিয়ম বা জালিয়াতি, কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন পরিশোধে যেসব জটিলতা দেখা দিচ্ছিলো এবং বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া— এসব বিষয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও নির্দেশনা যোগ করা হয়েছে। ব্যাংক ও কার্ড ইস্যুকারীরা গাইডলাইন অনুযায়ী নিরাপত্তা ও গ্রাহক সেবার মান উন্নত করার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।

নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে গ্রাহক-সুবিধা বাড়বে, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী হবে এবং নগদবিহীন লেনদেন আরও বিশ্বাসযোগ্য হবে—এমন প্রত্যাশা রাখছে কর্তৃপক্ষ।