ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র বলেছেন, পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এই দাবি ইরান সমর্থিত মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে উদ্ধৃত করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি সাক্ষাৎকারে সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেখারচি জানান, ‘পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ১৭টি ঘাঁটি স্থাপন করেছিল, আর ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী সেগুলো ধ্বংস করেছে। আমেরিকানরা তাদের ঘাঁটি ও সেনাবাহিনী রক্ষা করতে পারেনি।’
শেখারচি আরও বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ জুন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে ইরান তার প্রতিরক্ষামূলক নীতি পরিবর্তন করে আক্রমণাত্মক নীতিতে রূপান্তর করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলছেন, ‘গত ৪৭ বছরে ইরান কোনো দেশকে আগ্রাসন করে নি এবং ভবিষ্যতেও অন্য দেশে আগ্রাসন চালাবে না; তবে যদি কেউ আমাদের ওপর হামলা করে, আমরা পাল্টা আঘাত করে যতক্ষণ না ক্ষতি শোধ হয় ততক্ষণ থামব না।’
তিনি বললেন, ইরানের কৌশল বিজয় অর্জন এবং শত্রুকে শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ওপর থেকে যুদ্ধের ছায়া সরে না গেলে অনুপ্রবেশকারীকে শাস্তি দিয়ে তাড়া করা হবে বলে তিনি জানান।
শেখারচি যুক্তরাষ্ট্রকে বললেন, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার অজুহাতে গত কয়েক দশক ধরে তারা পশ্চিম এশিয়ায় ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করেছে এবং আঞ্চলিক জনগণকে শোষণ ও প্রতারণার মাধ্যমে স্থানীয় দেশগুলোকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে জানিয়েছেন, ‘হরমুজ প্রণালির অবস্থা আর আগের মতো থাকবে না’। যুদ্ধ শেষ হলেও ইরান কিছু শর্ত আরোপ করেছে এবং সেই শর্তগুলো অসীমভাবে মানতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
মুখপাত্র আঞ্চলিক মুসলিম দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে আশ্রয় দিচ্ছে তারা তা বন্ধ করবে। তিনি বললেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ভাবেন ইরান পিছিয়ে যাবে, তবে তারা ভুল করছে — ইরানের সংকল্প আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী এবং লক্ষ্যপূরণ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে।
শেখারচি ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ইরান সব দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে এবং কারও ওপর জোর করে নিজেদের ইচ্ছা চাপাবে না। তবে যদি কেউ তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তিকে আমন্ত্রণ জানায়, তার পরিণতি বহন করতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
মুহূর্তিকভাবেই এই দাবি যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয়নি; মেহর নিউজ এজেন্সির উদ্ধৃত বক্তব্যই ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্যের একমাত্র সূত্র হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।





