মঙ্গলবার, ৩১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাজস্ব দুর্বলতা বড় বাধা বাজেট বাস্তবায়নে, সিপিডির মতামত

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) মনে করছে, দেশের দীর্ঘদিনের রাজস্ব আহরণের দুর্বলতা বাজেটের সফল বাস্তবায়নে বড় একটি চ্যালেঞ্জ। যদি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় নিশ্চিত না করা যায়, তবে এটি উন্নয়ন খরচ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত ‘নতুন সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনায় এই বিষয়টি আলোচিত হয়। আলোচনায় প্রধান প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, জ্বালানি আমদানি ব্যয়ের বৃদ্ধি চলমান হিসাবের ঘাটতি বাড়াতে পারে এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই বাজেট প্রণয়নে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে এবং সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের রাজস্ব দুর্বলতা বাজেট বাস্তবায়নের জন্য বড় অসুবিধা। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বাইরে গেলে উন্নয়ন কাজ ও অর্থনীতির সুস্থতা ঝুঁকিতে পড়ে। পূর্বের ঋণের বোঝা ও জ্বালানি সংকটের প্রভাবে নতুন করে ঋণ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে, যার ফলে অর্থনীতি সচল রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির শঙ্কাও রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতিতে, নতুন সরকারের প্রথম বাজেট বাস্তবসম্মত, প্রয়োজনীয় সংস্কারভিত্তিক ও সম্ভাব্য বিষয়গুলো সমাধানে মনোযোগী হতে হবে। কর ব্যবস্থার প্রসঙ্গে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, যারা এখনও করের আওতায় আসেনি, তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি, করের আওতা বৃদ্ধি করার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের উপর করের চাপ কমানোর পরিকল্পনাও জরুরি। সরকারি ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিজস্ব আয় বাড়াতে না পারে, তবে ভর্তুকি দিয়ে চলমানের নীতির যৌক্তিকতা প্রশ্নের মুখে পড়বে। এই সব কিছু বিবেচনায়, বাজেটের সফলতাকে আরও বেশি বাস্তবায়নযোগ্য, স্বচ্ছ এবং সংস্কারমূলক করে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।