যশোর রিজিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় জ্বালানি তেলের নিরাপদ ও নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অবৈধ মজুদ ও পাচার প্রতিরোধে বিজিবি তৎপরতা বাড়িয়েছে। সোমবার বেনাপোল বিজিবি সদর ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেঃ কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান এ তথ্য জানান।
লেঃ কর্নেল সাইফুল আলম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ওঠানামা ও বৈশ্বিক অস্থিরতার ফলে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে তেল পাচারের চেষ্টা বাড়তে পারে। তাই দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা, বিপণন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা রক্ষা ও বৈষম্য সৃষ্টিকারী মজুদদার ও পাচারকারীদের বাধা দেয়ার লক্ষ্যে রিজিয়নজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে টহল ও তল্লাশি বাড়িয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য—জ্বালানি ডিপোসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ডিপো থেকে ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত জ্বালানির স্বাভাবিক ও uninterrupted সরবরাহ বজায় রাখা, সীমান্ত ও নৌপথে পার্শ্ববর্তী দেশে তেল পাচার রোধ করা এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ মজুদের সমস্ত চেষ্টাই নবত্মতভাবে থামানো।
যশোর রিজিয়নের আওতায় পরিচালিত কার্যক্রমের পরিসংখ্যানও তিনি তুলে ধরেন। সেখানে সাতটি ব্যাটালিয়নের সীমান্ত ও সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় মোট ১৯২টি বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। ২৯টি সীমান্তবর্তী তেল পাম্প/ফিলিং স্টেশন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। সন্দেহভাজন রুটগুলোতে মোট ১,৯৩৬টি তল্লাশি ও মোবাইল টহল পরিচালনা করা হয়েছে এবং চোরাচালানী রুটগুলোর ওপর ১,১৩১টি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে।
স্থানীয় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে ৯৪৬টি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে যাতে জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে বিষয়ে সচেতন করা যায়। এছাড়া বিভিন্ন সংস্থা ও বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে ৯৭টি যৌথ তল্লাশি ও চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়েছে—যার ফলে জ্বালানি পাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
নৌরক্ষা অনুযায়ী নাওপথে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে—স্পিডবোট ব্যবহার করে নিয়মিত ৬টি টহল চালানো হচ্ছে, ফলে নদীপথেও সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া বিজিবি সদর দফতরের নির্দেশনায় সারাদেশে ৯টি জেলায় ১৯টি ডিপোতে বিজিবির মোতায়েন রয়েছে।
লেঃ কর্নেল সাইফুল আলম জনসাধারণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানুষের সহযোগিতায় জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা সহজ হবে। তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ করেন, কোনো গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সীমান্তবর্তী এলাকায় জ্বালানিসংক্রান্ত কোনো সন্দেহজনক লেনদেন বা কার্যক্রম দেখলেই তা দ্রুত বিজিবিকে জানিয়ে সহযোগিতা করবেন।





