সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, ‘আনন্দ’ কিংবা ‘মঙ্গল’ শোভাযাত্রা নাম নিয়ে ফের বিতর্ক দেশকে আরও বিভক্ত করার আশঙ্কা তৈরি করছে। আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী জানান, পহেলা বৈশাখ পালন যথাযোগ্য মর্যাদা ও চিরায়ত ধারায় হবে। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ, বাংলা একাডেমি, নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ মোট প্রায় ৫০টি প্রতিষ্ঠান নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সমন্বিত মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে শোভাযাত্রা, আলপনা, গান-বাজনা ও মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, ‘আনন্দ বা মঙ্গল শোভাযাত্রা যে নামেই ডাকা হোক না কেন, অন্তর্বর্তী সরকার পহেলা বৈশাখের উৎসব সম্পন্ন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। তাদের ডকট্রিন অব নেসেসিটির সাথে মানানসইভাবে এই অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব তারা নিয়েছিল। এই দায়িত্বে তারা অনেক কিছুই সামলেছেন, তাই তাদের বিপথগামী বলে মনে করি না।’
এছাড়া, তিনি আরো বলেন, ‘আমরা দেখছি এক ধরণের প্রবণতা পঞ্চাশের দশক পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের উল্লেখ এড়িয়ে যেতে চাওয়া। তবে আমরা চাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও আমাদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সবাই জানোক, তরুণ প্রজন্মের জানার অধিকার রয়েছে। ১৯৫২, ১৯৭১, মুক্তিযুদ্ধ—এই গৌরবের ইতিহাসগুলো তুলে আনতে হবে, যেন আমাদের জাতীয় চেতনা সুদৃঢ় হয়। গণতন্ত্রের চর্চা ও বাংলাদেশি সংস্কৃতি উজ্জ্বল করে রাখতে চাই।’
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামের পরিবর্তে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামে নামকরণ করেছে বলে আমি ধন্যবাদ জানাই। তবে এই পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন ছিল বলে আমার মনে হয় না। এক্ষেত্রে নামের পার্থক্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে দেশকে বিভক্ত করার অপচেষ্টা করতে চাই না।’
তিনি স্বীকার করেন, সমাজে চিন্তাধারা ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক—এটি গণতান্ত্রিক সমাজের সৌন্দর্য। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই বিভিন্ন মতামতের মধ্যে ঐক্য। প্রচলিত সংস্কৃতি ও জীবনধারার মধ্যে বৈচিত্র্য থাকলেও আমরা সবাই একসাথে থাকতে চাই। এই বিভাজনবাদ ও বিতর্ক unnecessary বলে মনে করি।’
বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দেশের উন্নয়নের জন্য বর্তমান সরকার দায়িত্বশীল বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবার সোচ্চার হওয়া আবশ্যক। ১৯৭৪ সালের চব্বিশের অভ্যুত্থান এবং মৌলবাদী চিন্তার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত রয়েছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। অপসংস্কৃতি রোখে জীবনের মূলধারার সংস্কৃতির বিকাশে কাজ করবে সরকার।’
অন্ততপক্ষে, যথাযোগ্য মর্যাদা ও শুভভাবে পহেলা বৈশাখের সব অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেন অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী।





