বুধবার, ১লা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইতালির দারুণ স্বপ্নভঙ্গ, তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না অ্যাজুরিদের

জেনিৎসার বিলিনো পোলি স্টেডিয়ামে আজ ফুটবল প্রেমীরা দেখলেন এক অসাধারণ কাকতালীয় লড়াই। বিশ্বকাপে চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালি এক বছরের ক্ষোভ and আক্ষেপ ঘুচিয়ে ১২ বছর পর ফেরার স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু সেটি শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য মিছুর মতো হয়ে গেল পেনাল্টি শুটআউটে। এর ফলে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল আসর থেকে বিনা মোকাবেলায় বেরিয়ে যেতে হলো অ্যাজুরিদের।

ম্যাচের প্রথমার্ধে ইতালি দুর্দান্ত আক্রমণে এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে একটি গোল হজম করে ম্যাচ শেষ হয় ১-১ গোলে। অতিরিক্ত সময়ে কোনো দলই গোল করতে সক্ষম হয়নি। তখন ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে, যেখানে ভাগ্য পরীক্ষায় প্রথমে এগিয়ে যায় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।

টাইব্রেকারের প্রথম শটে গোল করে বসনিয়ার বেঞ্জামিন তাহিরোভিচ, অন্যদিকে ইতালির পيو এস্পোসিতো শটটি মিস করেন। দ্বিতীয় শটেও দুই দলই গোল করে, কিন্তু তৃতীয় শটে বসনিয়া গোল করতে পারলেও ইতালির ব্রায়ান ক্রিস্টান্তে শট মিস করায় বসনিয়া ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে। এর মাধ্যমে তারা বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে যায়।

শুরুতেই ইতালি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে। ম্যাচের ১৫তম মিনিটে ইতালিয়ান ফরোয়ার্ড ময়েস কিন দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে দলকে লিড দেন। এই গোলের ফলে তারা ১২ বছরের স্বপ্নের পথে এক বড় ধাপ অতিক্রম করে।

তবুও, মাত্র ২৭ মিনিটের মধ্যে দাপট দেখা দেয় বিদায়ী ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো বাসটোনির লাল কার্ডের মাধ্যমে। তার কারণে প্রথমার্ধে একজন কম নিয়ে ম্যাচ চালাতে হয় ইতালিকে। এরপর বসনিয়া চাপ সৃষ্টি করে রক্ষণভাগে। তবে বীরত্বের সাথে রক্ষণে থাকেন গোলকিপার জিয়ানলুইজি ডোনারুমা। প্রথমার্ধে তারা কোন গোল হজম করেনি।

দ্বিতীয়ার্ধে বেশি সংখ্যক খেলোয়াড়ের সুবিধা কাজে লাগাতে বসনিয়া আক্রমণ বাড়ায়। তাদের কৌশলে বেশ কিছু চমৎকার আক্রমণ নিয়ে আসে, যেখানে ম্যাচের ৮২ মিনিটে এডিন জেকো গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরায়। এরপরেও গোলের জন্য আর কোনো দলই চেষ্টা চালায়নি।

অতিরিক্ত সময়ে দুই দল চেষ্টা করেও কোন গোল করতে পারিনি, ফলে ম্যাচটি শেষ হয় ১-১ গোলের সমতায়। সেই সাথে দীর্ঘ ১২ বছরের অপেক্ষার অবসান হয়নি আর, ফলে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের স্বপ্ন ভেঙে যায় ইতালির।