বুধবার, ১লা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাজস্ব দুর্বলতা বাজেট বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ: সিপিডি

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) মনে করছে, দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজস্ব আহরণের দুর্বলতা বাজেটের সফল বাস্তবায়নের বড় বাধা। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় যথাযথভাবে না হলে দেশের উন্নয়নমূলক ব্যয় এবং মোট অর্থনৈতিক পরিকল্পনাগুলো প্রভাবিত হয়ে আরও চাপের মুখোমুখি হবে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত ‘নতুন সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনায় এই বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়, যেখানে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি সতর্ক করে বলছেন, জ্বালানি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পেলে চলতি হিসাবের ঘাটতি বেড়ে যাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সর্তকতা অবলম্বন জরুরি। ড. ভট্টাচার্য আরও জানান, দীর্ঘ দিন ধরে রাজস্ব আহরণের দুর্বলতা দেশের বাজেট বাস্তবায়নের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব সংগ্রহে ব্যর্থতা অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় চাপ সৃষ্টি করছে যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ঋণের বোঝা, জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে দেশের অর্থনীতি সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে, নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অবশ্যই বাস্তবসম্মত ও প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক হওয়া জরুরি। এসব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা এখনো করের আওতায় আসেননি, তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, পাশাপাশি করের আওতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের ওপর করের চাপ কমানোর বিষয়েও নজর দিতে হবে। সরকারের অনুমোদিত ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ের দিকেও গুরুত্ব দেন তিনি, কারণ এসব প্রতিষ্ঠান যদি নিজেদের আয় বাড়াতে না পারে, তাহলে ভর্তুকি চালিয়ে যাওয়ার ব্যয়বহুলতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠবে।