দেশে সদ্য শেষ হওয়া মার্চ মাসে প্রবাসীরা মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে বুধবার এই তথ্য জানানো হয়েছে। এটি একক মাস হিসেবে দেশের রেমিট্যান্স ইতিহাসে নতুন রেকর্ড। (প্রায় পৌনে ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।)
তুলনায় দেখা গেলে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স ছিল ৩০২ কোটি ডলার; অর্থাৎ মার্চে ফেব্রুয়ারির তুলনায় প্রায় ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার বেশি এসেছে। গত বছরের একই সময় (মার্চ ২০২৫) যে রেমিট্যান্স এসেছিল, সেটির তুলনায় এবার প্রায় ৪৬ কোটি ডলার বেশি পাঠানো হয়েছে। গত বছরের মার্চে রেমিট্যান্স ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এর আগের দিনগুলোতে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স কয়েকটি মাসেই দেখা গেছে—গত বছরের মার্চে ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার (প্রায় ৩.২৯ বিলিয়ন), ডিসেম্বরে এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার (প্রায় ৩.২৩ বিলিয়ন) এবং জানুয়ারিতে ছিল ৩১৭ কোটি ডলার (প্রায় ৩.১৭ বিলিয়ন)। চলতি বছরের মার্চ এসব রেকর্ডকে ছাপিয়ে নতুন শীর্ষে পৌঁছেছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মার্চ মাসে অনেক ক্ষেত্রে ঈদ-বর্ষবরণের প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় খরচের কারণে প্রবাসীরা বাড়তি রেমিট্যান্স পাঠান; এ কারণটিই এই সিজনাল প্রবণতা বাড়ায়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশে এখনও কর্মসংস্থান সুযোগ স্থিতিশীল রয়েছে এবং সেখানে বেকারত্ব বড়ভাবে বেড়ে না যাওয়ায় প্রবাসীরা নিয়মিত আয় পাঠাতে পারছেন। জীবনযাত্রার ব্যয়ও দ্রুত না বাড়ায় প্রেরণ ক্ষমতা তুলনায় বজায় থাকায় রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
চ্যানেলভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সদ্য শেষ হওয়া মার্চে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো মাধ্যমে ৬৪ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। বিশেষত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে প্রায় ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে এসেছে প্রায় ২৬৪ কোটি ডলার। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে আনুমানিক ১ কোটি ২০ হাজার ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্টে এই ডিজিটাল ও ব্যাংকিং চ্যানেলের বিশ্লেষণ তুলে ধরে যে, রেমিট্যান্স প্রবাহে আসা উত্থান দেশের বৈদেশিক মুদ্রা স্ট্যান্ডিং ও ভোক্তা খরচ সামলাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।





