শুক্রবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নারী এমপিদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য: যা বললেন কুষ্টিয়া-৩ এমপি আমির হামজা

কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর এমপি ও ইসলামি বক্তা আমির হামজা সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে করা কটূক্তির ঘটনায় নিজের موقف পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেছেন, ওই বিতর্কিত মন্তব্যগুলি তার মনে নেই এবং ‘‘এটি দেড় ঘণ্টার আলোচনা ছিল, কোথায় কী বলেছি তা কি মনে রাখা সম্ভব?’’ তিনি মিডিয়াকে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খুঁজে দেখার কথাও বলেন।

ভিডিওতে আমির হামজা পাশে বসা নারী এমপিদের শারীরিক গঠন নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। তিনি রুমিন ফারহানা ও প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিনের নাম উল্লেখ করে কটাক্ষ করেন এবং ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি নায়াব ইউসুফ আহমেদের কথাও উল্লেখ করেন। ভিডিওর একাংশে তিনি বলেন যে তার ডান-বামে-বামে ভুঁড়িওয়ালা লোক দেখা গেছে এবং এমনভাবে উপহাস করেন যে ‘‘মনে হয় ভুঁড়ি ছিঁড়লে ভেতর থেকে ব্রিজ-কালভার্ট বের হবে’’ এবং মহিলা এমপিরা তাদের দেখলে লজ্জা পাবে—এমন কথা বলেন।

ঘটনাটি ফাঁস হওয়ার পর রাজনীতিক ও সংশ্লিষ্ট নারী এমপিরা তীব্র কড়া প্রতিক্রিয়া দেন। রুমিন ফারহানা বললেন, ‘‘এ মন্তব্যটি দুই দিন আগে আমার নজরে এসেছে। তার অতীত রেকর্ড বিবেচনায় এটা কোনো ব্যতিক্রম নয়।’’ তিনি আরও অবাক পেয়েছেন যে সংসদে এক সপ্তাহ যাওয়ার পরও আমির হামজা জানেন না যে প্রত্যেক সদস্যের নির্দিষ্ট আসন থাকে—যদিও জামায়াতের এমপি হিসেবে তিনি সাধারণত নিজের দলের লোকদের সঙ্গে বসেন। রুমিন মন্তব্য করেন, এ ধরনের বক্তব্য নারীদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন; একটি নারীবিদ্বেষী সমাজে এ ঘটনাকে অস্বাভাবিক মনে করা যায় না, কিন্তু দুঃখজনক যে এখন এরা জনগণের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি।

নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন বলেন, তিনি ভিডিওটি দেখেছেন এবং এ ধরনের কথা বলা তাঁর মর্যাদার নিচে। তিনি বলেছেন, এই বিবৃতি শুধু নারী এমপিদের নয়, সংসদের প্রতিটি সদস্য এবং দেশের প্রতিটি নারীকে অপমান করেছে। আইনি ব্যবস্থা নেবেন কি—এই ধরনের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন বর্তমানে এমন একজন অশালীন ব্যক্তির জবাব দেওয়ার চেয়ে তার আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে।

ফরিদপুর-৩ এমপি নায়াব ইউসুফ আহমেদ এই মন্তব্যকে ‘‘চরম সংকীর্ণ মানসিকতার’’ পরিচয় বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘তারা নারীদের মানুষ হিসেবে দেখে না; যেন আমরা অন্য গ্রহের মানুষ। এমন দৃষ্টিভঙ্গি কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।’’

এদিকে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক সুজা উদ্দিন জোয়ার্দার সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘মানুষ প্রতিদিন অনেক কিছু কথা বলে; সবকিছু কি তাকে শেখাতে হবে? তাকে দলীয়ভাবে বারবার সতর্ক করা হয়েছে—কেন্দ্র থেকে, স্থানীয়ভাবে। আমরা তার বন্ধুদেরও তাকে বোঝানোর জন্য বলছি। আমরা খুব বিব্রত।’’

প্রধান আলোচ্য ভিডিও ও তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। আমির হামজার বক্তব্য মেনে নেওয়া হয়নি, এবং সংঘটিত ঘটনার উপযোগী প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।