জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) গত মাসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচনের স্বচ্ছতা যাচাই করতে একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত শেষে আজ সংশ্লিষ্টরা এনএসসিতে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তবে কমিটির ডাকে উপস্থিত হয়নি সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিনি খালি ডাকে কমিটির সাক্ষাৎকারে সাড়া দেননি কয়েকটি গুরুতর কারণে। প্রথমত, মন্ত্রণালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান—বিসিবি—সম্পর্কে এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে তদন্ত করছে বলে তিনি মনে করেন। দ্বিতীয়ত, তার দাবি, তদন্ত কমিটির প্রজ্ঞাপনে ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত কথাস্হায়ীভাবে ধরে নেওয়ার লক্ষণ রয়েছে, ফলে সত্য ও পক্ষপাতহীন তদন্ত হবে কি না সন্দেহ রয়েছে।
তৃতীয় ও সবচেয়ে গুরুতর আখ্যায়িত কারণে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বিষয়টি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালতে চলমান মামলার ওপর তদন্ত চালিয়ে তদন্ত কমিটি এবং যারা এ কাজে অংশ নেবে, তারা আদালত অবমাননায় অংশ নিচ্ছে—এমন উদ্বেগ তার রয়েছে। চতুর্থত, তিনি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কার্যকলাপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন; দাবি করেছেন যে প্রতিমন্ত্রী বোর্ড পরিচালকদের পরবর্তী বোর্ডে পরিচালক হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লোভ দেখান, রাজি না হলে ভয় দেখিয়ে পদত্যাগ করানো হয়।
পোস্টে তিনি আরও জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটি থেকে তাকে বলা হয়েছিল যে বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন; তিনি জানতে চেয়েছিলেন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে এ রকম তদন্ত পরিচালনা করা যায় কি না, কিন্তু সন্তোষজনক কোনো উত্তর পাননি। তিনি বলেন, “আমি তো জেনে-বুঝে নিয়মবহির্ভূত বা আদালত অবমাননার মতো কাজে অংশ নেব না”—এই কারণেই তিনি কমিটির নোটিশে সাড়া দেননি।
এনএসসি ১১ মার্চ সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে ওই পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছিল। কমিটির মূল দায়িত্ব ছিল যাচাই করা যে নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়েছে কিনা। তদন্তের জন্য কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের সময় দেওয়া হয়েছিল; তারা নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
পটভূমিতে রয়েছে গত বছরের ৬ অক্টোবর ঢাকা ক্লাব সংগঠকদের একাংশের বিসিবির নির্বাচন বর্জন। সেই আন্দোলনের পর থেকে দেশের ক্লাব ক্রিকেট কার্যত থমকে আছে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) এখনো মাঠে না গড়ানোর কারণে ক্রিকেটাররা সামাজিক পরিষেবা মাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করেছেন। এনএসসি তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং বিসিবি‑ভিত্তিক সিদ্ধান্তগুলো ক্লাব ক্রিকেট ও জাতীয় ক্রিকেটে কবে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে, সেটিই এখন নজরের।





