বুধবার, ৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও উপসাগরীয় দেশগুলিতে সতর্কতা তীব্রতর

যুদ্ধবিরতির ঘোষণার মাঝেই উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও সীমান্ত ও আকাশসীমায় অস্থিরতা রয়ে গেছে।

কুয়েত

দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও নির্বিচারে উড়ানো ড্রোনগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

বাহরাইন

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সারাদেশে সতর্ক সংকেত (সাইরেন) বাজিয়েছে। জনসাধারণকে দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং জরুরি সেবাসমূহ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সৌদি আরব

বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ রাজধানী রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে আগাম সতর্কতা জারি করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সম্ভাব্য বড় ধরনের আঘাতের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত

কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরাপত্তা হুমকির মাত্রা অত্যন্ত ‘উচ্চ’ বলে জানিয়েছে এবং জনসাধারণকে ঘরের ভেতর অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে, যাতে কোনো সম্ভাব্য হুমকি দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।

কেন সতর্কতা বাড়ল

যৌথভাবে দুই সপ্তাহকালীন যুদ্ধবিরতির ওপর জন্মানো সমঝোতা থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান এবং ইসরায়েলি বাহিনীর চূড়ান্ত নির্দেশ না পাওয়ার কারণে অনিশ্চয়তা কমে না। উপসাগরীয় দেশগুলো এই অনিশ্চয়তা থেকে হওয়া প্রক্সি হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা ড্রোন হামলার আশঙ্কা করে সতর্কতা বাড়িয়েছে।

এমন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে, কারণ যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বলা হয়েছে, কিন্তু সেই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই নিরাপত্তাজনিত সতর্কবার্তা ছড়িয়ে পড়ায় ছড়াছড়ি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা ত্রুটিহীন নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন যাতে নাগরিক নিরাপত্তা বজায় রাখা যায়।