বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

সংবিধান সংস্কার পরিষদে স্মরণসভা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চার দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামি ও তার নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। এই তথ্য মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে বাংলাদেশ খিলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক সাংবাদিকদের কাছে জানান।

মামুনুল হক অভিযোগ করেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমানে সরকার জনগণের প্রতিনিধিত্বের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করছে এবং এর উপহাস করছে। তিনি বলেন, সংস্কার ও গণভোটের জন্য স্বচ্ছ আলাপ-আলোচনা ও ঐক্যমতের উপরে ভিত্তি করে রাজনৈতিক নেতারা এগোলে দেশের উন্নতি হতো, কিন্তু বর্তমান সরকারের অমানবিক রাজনীতি সেই পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার একদলীয় ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যেখানে জনদুর্ভোগ ও গণআন্দোলনকে দমন করতে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এই নব্য ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ১১ দলীয় ঐক্য অটুট রেখে, যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অপরদিকে, আগামী ৯ এপ্রিল বিকেলে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে সাদা পত্র বিলির কর্মসূচি শুরু হবে। এছাড়াও, ১১ এপ্রিল সারা দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও থানায় বিক্ষোভ মিছিল, ১২ এপ্রিল জেলায় জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল এবং ১৩ এপ্রিল ঢাকায় এক বিশাল জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে গণভোটের রায়ের বাস্তবায়নের জন্য জনমত গড়ে তোলার লক্ষ্যে আলোচনা হবে।

সরকারের নীতির কঠোর সমালোচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিরোধী দলকে জনগণের রাজপথের আন্দোলনের পথে ঠেলে দিয়েই সরকার ভুল পথে হাঁটছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপির অপ্রকাশ্য কার্যকলাপের কারণে জাতি হতবাক ও বিস্মিত, কারণ বিএনপি’র নোট অব ডিসেন্ট মুলত আলাদা কিছু নয়, বরং এর মাধ্যমে সংবিধান নিয়ে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

তাঁরা জ্বালানি সংকট ও সংসদে বিরোধীদের বক্তৃতা বন্ধের অভিযোগও দায়ের করেন এবং বলেন, দিল্লির আগ্রাসবাদের বিরোধী অবস্থান নিচ্ছে এমন ব্যক্তিদের উপর সরকার রাজাকার ট্যাগ দিচ্ছে। শেষদিকে, জামায়াতের এই নেতারা বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার আন্দোলনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান, যেন দেশের রাজনীতিতে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুদৃঢ় হয়।