বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জিডিপির প্রবৃদ্ধি ফের নিম্নমুখী

চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশের মোট উৎপাদনের হার আবারও কমে গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, অক্টোবর-ডিসেম্বরে দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৩.০৩ শতাংশ, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় কম। এর আগে, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে এই হার ছিল ৪.৯৬ শতাংশ, এবং গত অর্থবছরের একই সময় এটি ছিল ৩.৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ, দুই সময়ের তুলনায় চলতি প্রান্তিকে দেশের অর্থনীতির গতি বেশ নিম্নমুখী। এই বিষয়ে বিশ্লেষকরা বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণেও দেশের অর্থনীতি সংকটাপন্ন। চলতি বছর ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের উপর যৌথ হামলা চালালে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যায়। এর ফলে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং দেশের জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। এই পরিস্থিতি অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে, যার ফলে বিভিন্ন শিল্প ও সেবা খাতে উৎপাদন কমে গেছে। পাশাপাশি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নতুন সরকারের সময় অর্থনৈতিক সংকটের কারণে উন্নয়ন কার্যক্রমে পর্যাপ্ত অর্থায়ন সম্ভব হয়নি। এসব কারণের প্রভাবে দেশের জিডিপির বৃদ্ধির হার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিবিএসের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এই প্রান্তিকে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে শিল্প খাতে, যেখানে হার কেবল ১.২৭ শতাংশ। কৃষি খাতে ৩.৬৮ শতাংশ, আর সেবা খাতে ৪.৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়। এর আগে, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্প খাতে সর্বোচ্চ ৬.৮২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছিল। তবে চলতি প্রান্তিকে শিল্পে প্রবৃদ্ধির হার সেভাবে বাড়েনি। কৃষি ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়েছে, তবে সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল ২.০৫ শতাংশ, যা প্রথম প্রান্তিকে বেড়ে ৪.৯৬ শতাংশে পৌঁছায়। কিন্তু এই বৃদ্ধির ধারায় এড়িয়ে গেলে, দেশের কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জন নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে শিল্প খাতের এই কম প্রবৃদ্ধি সার্বিক অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও বিশ্লেষকেরা মনে করেন।