শনিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ফুয়েল পাস অ্যাপের রেজিস্ট্রেশন ও ব্যবহার কিভাবে করবেন সহজে

জ্বালানি তেলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও ফিলিং স্টেশনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য সরকার নতুন একটি সংশোধিত ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে, যার নাম ‘ফুয়েল পাস’। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে একটি বিশেষ ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে, যা বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকার দু’টি ফিলিং স্টেশনে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইতোমধ্যে, রেজিস্ট্রেশনকারীর সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি ছাড়িয়েছে।
নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যানবাহন মালিকরা অনলাইনের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি সংগ্রহ করবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আগ্রহী ব্যবহারকারীরা রাজধানীর আসাদ গেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন ও তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন থেকে কার্যক্রম শুরু করেছেন।
সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম-সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, বেশ কিছু ব্যবহারকারী ইতোমধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন, তবে অনেকেই এখনও পুরো প্রক্রিয়াটি বোঝার জন্য আলাদা প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
ফুয়েল পাসের ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি সহজ। fuelpass.gov.bd-এ প্রবেশ করে চার ধাপে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। প্রথমে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে, যা বিআরটিএ’র ডেটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। পরে মোবাইলে এসএমএস আকারে ওটিপি আসবে, তার মাধ্যমে যাচাই করে বাকি তথ্য পূরণ করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজন হবে জাতীয় পরিচয়পত্র, গাড়ির নিবন্ধন বই (ব্লু বুক), ড্রাইভিং লাইসেন্স, একটি সচল মোবাইল নম্বর এবং পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারের পদ্ধতিও খুব সহজ। গুগল প্লে স্টোর থেকে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ ডাউনলোড করে, সাইন আপ করে নিজের গাড়ির তথ্য ও জ্বালানির বরাদ্দ দেখতে পারবেন। এই অ্যাপের মাধ্যমে আপনি দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক কতটুকু জ্বালানি নেওয়া যাবে, তা সরাসরি দেখতে পাবেন। এছাড়া, অ্যাপের কিউআর কোড স্ক্যান করে ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নেওয়ার তথ্য সংরক্ষণ করা যাবে। তেমনি, আগের লেনদেনের বিস্তারিত হিসাবও ‘হিস্ট্রি’ অপশনে দেখা সম্ভব।
সরকার বলছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে জ্বালানি বিতরণে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং অপ্রয়োজনীয় ভিড় ও অপচয় কমানো সম্ভব হবে, যা দেশের জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।