রবিবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স, আলোচনার প্রস্তুতি শুরু

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছে গেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইসলামাবাদের বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর আগে কখনো এভাবে উচ্চস্তরের মার্কিন প্রতিনিধি এই অঞ্চলে আসেননি। মনে করা হচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যক্তিকে পাঠানো হয়েছে, যেন শেষ মুহূর্তের চুক্তি সম্পন্ন করার দায়িত্ব তার কাঁধে দেওয়া হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর পরিস্থিতির গুরুত্ব অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। ভ্যান্সের সঙ্গে থাকবেন জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ, যারা মূল আলোচক। এই পদক্ষেপটি প্রমাণ করে যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন দ্রুত এই চুক্তিটি সম্পন্ন করতে আগ্রহী।

অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত যুদ্ধের পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত। দেশের এক-তৃতীয়াংশের কম মানুষ এ ব্যবস্থার পক্ষে। এর ফলে, দক্ষিণপন্থী এই উদ্যোগ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন ট্রাম্প। এছাড়া, নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই সংঘাতের প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই তার দল রিপাবলিকান পার্টির শক্তি কমিয়ে দিতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে, ট্রাম্প ভ্যান্সাকে পাঠিয়েছেন চূড়ান্ত সমঝোতা নিশ্চিত করতে। মূল লক্ষ্য রয়েছে—হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা, সেটি সচল রাখা এবং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য হল এই সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে নিজেকে বিজয়ী হিসেবে উপস্থাপন করা। এর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা।

এর আগে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃস্থানীয় সদস্য জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। রয়টার্সের খবর, এমন এক বিমানে করে তারা পাকিস্তানের রাজধানীতে এসেছেন, যা বিশেষভাবে এই আলোচনার জন্য কাঠামো তৈরিতে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এ আলোচনাকে ‘মেক অর ব্রেক’ অর্থাৎ চূড়ান্ত মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ইরানি প্রতিনিধিদলের বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশের সময় তাদের নিরাপত্তার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বিমানটিকে এডব্লিউএসিএস সতর্কতা বিমান, ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান এবং অন্যান্য যুদ্ধে সামরিক বাহিনী দ্বারা ঘিরে রাখা হয়। ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পরে ইরানি প্রতিনিধিদলকে উদ্দেশ্যে জানান সরকারের প্রতিরক্ষা বাহিনী, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নেতৃত্ব দিচ্ছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। রাজধানীর প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা ব্লু এরিয়ায় এত তীব্র গাড়ি ও জনজট তৈরি হয়েছে যে পুরো রাস্তা কার্যত থমকে গেছে। সরকার এই দুই দিনের জন্য ছুটি ঘোষণা এবং নিরাপত্তায় মোতায়েন করেছে প্রায় ১০ হাজার সেনা ও নিরাপত্তা কর্মী।

বিমানবন্দর থেকে ইরানি প্রতিনিধিদল যখন শহরের দিকে রওনা দেন, তখন তাদের নিরাপত্তা দেয় স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপের বিশেষ কমান্ডো ইউনিট। ইসলামাবাদ সময় সকাল ১০টার একটু পরে, মেঘাচ্ছন্ন আকাশের নিচে প্রস্তুত দেশের এই বহুল প্রত্যাশিত আলোচনা শুরু হওয়ার জন্য।

মধ্যরাতের পর ইরানি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছায়, নেতৃত্বে ছিলেন স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তাৎক্ষণিকভাবে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সেখানে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই আলোচনা কখন শুরু হবে বা কত দিন চলবে—এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো তৎপরতা জানানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনা অন্তত একটি পুরো দিন পর্যন্ত চলতে পারে, যদি ভ্যান্স এখনো পৌঁছান।

এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি সিদ্ধান্তের পরে এ আলোচনা সর্বোচ্চ ১৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখা যেতে পারে। এই বৈঠকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তপ্ত সম্পর্কের কিছু অংগমুক্তির চেষ্টা চলবে, যা সম্ভবত এই দুই দেশের বৃহৎ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হবে।