স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দেশের হামের প্রাদুর্ভাব রোধে সরকার দৃढ़ভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ১৮টি জেলাকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ৩০টি উপজেলাকে শনাক্ত করা হয়েছে। এসব অঞ্চলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ৫ এপ্রিল থেকে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর কড়াইলের এরশাদ মাঠে হাম-রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত বলেন, পর্যায়ক্রমে ঢাকার বড় সিটি কর্পোরেশনসহ অন্যান্য এলাকায়ও এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী ২০ তারিখ থেকে বাংলাদেশের সব জেলায় এই হামের টিকাদান অভিযান চালানো হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে আমাদের দ্রুত এই কাজগুলো সম্পন্ন করতে হবে। জনগণের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে যে, আমরা সবাই একসঙ্গে এই মহামারি থেকে মুক্তি পেতে সংগ্রাম করছি। জনগণের স্বপ্ন ছিল, স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সেটি ধরে রাখতে আমাদের এই কাজগুলো গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আমরা জনগণের জন্য সব সময় নিবেদিত থাকি। তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও তাদের কাজের ফল দেখানোর মাধ্যমে আমাদের বিশ্বাস আরও জোরদার হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা গভীরভাবে সচেতন।
তিনি বলেন, অনেক সময় মানুষ বলে থাকেন, রাজনীতিবিদরা নির্বাচনের সময় উপস্থিত হয়, তারপর তারা কম যায়। এই ক্যাম্পেইনটি তাই এক সুযোগ, যাতে আমরা সাধারণ মানুষের মধ্যে সত্যিকারের তথ্য পৌঁছে দিতে পারি।
অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত বলেন, সঠিক তথ্য দিয়ে যখন জনগণের কাছে যাব, তখন তারা সত্যটি বুঝতে পারবে। অতীতেও আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার হয়েছে, এখনও হচ্ছে, তবে সাধারণ মানুষ এখন অনেক সচেতন।
মায়েদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যারা ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুকে দেখছেন, তাদের অবশ্যই এই টিকা দিতে হবে। এই টিকা কতটা কার্যকর, তা নির্ভর করছে আপনার শিশুটি এই টিকা নিয়েছে কি না। এই টিকা ছাড়া আমাদের সন্তানের নিরাপত্তা সম্ভব নয়।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, হাম সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায়, তাই সময়মতো টিকা দিয়ে এটি প্রতিরোধ করাও সহজ। এটি মূলত গোষ্ঠী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, যার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট জনসংখ্যার বড় অংশকে টিকার মাধ্যমে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা হয়। বেশি সংখ্যক শিশুকে টিকাদানে সফল হলে হাম করার সুযোগ কমে যাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন বলেন, ডিএনসিসির নিজস্ব কোনও জেনারেল হাসপাতাল নেই, তবে মহাখালীতে আমাদের একটি হাসপাতাল রয়েছে, যা বর্তমানে কোভিড হাসপাতালে স্থানান্তরিত। তিনি বলেন, আমরা চাই, এই হাসপাতালটি উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর করে সাধারণ জনগণের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা সম্পন্ন করতে। এর জন্য আমরা পরিদর্শন করে সেখানে কিছু অব্যবস্থা নজরে এনেছি; একটি পূর্ণাঙ্গ জেনারেল হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলমান।
উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, ইউনিসেফ ও ডব্লিউএইচও প্রতিনিধিদলের সদস্যসহ আরও অনেকে।





