মঙ্গলবার, ১৪ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেষযাত্রা আজ — রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিদায় আশা ভোসলেকে

ভারতীয় সংগীতজগতে এক যুগান্তকারী অধ্যায় শেষ হলো। কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোসলে ৯২ বছর বয়সে মুম্বাইয়ে প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর প্রয়াণে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমেছে এবং আজ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে।

আসলে রোববার মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই আশা ভোসলের মৃত্যু হয়। তিনি আগের রাতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন যে সংক্রমণ ও বয়সসংক্রান্ত জটিলতার সঙ্গে লড়ে শেষ পর্যন্ত একাধিক অঙ্গের কার্যক্ষমতা বন্ধ হয়ে যাওয়াই মৃত্যুর কারণ।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ সোমবার বিকেল ৪টায় শিবাজি পার্কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। এই একই শিবাজি পার্কে তৎকালীনভাবে বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের শেষকৃত্যও হয়েছিল। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

গতকাল সন্ধ্যায় আশা ভোসলের মরদেহ তাঁাদের লোয়ার প্যারেলের বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। আজ সকাল থেকেই বিকেল পর্যন্ত ভক্ত-অনুরাগীরা শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সেখানে মরদেহ রাখা হয়েছে। গায়িকার ছেলে আনন্দ ভোসলে বলেছেন, ‘যাঁরা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে চান, তাঁরা বেলা ১১টা থেকে তাঁর বাসভবনে আসতে পারেন।’ পরিবারের এক বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘শেষদর্শন সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে, এরপর বিকেল ৪টায় শিবাজি পার্কে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।’

আশা ভোসলের সংগীতজীবন সাত দশকেরও বেশি দীর্ঘ — প্রায় ১২ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন তিনি। হিন্দি ছাড়াও ২০টির বেশি ভাষায় তার কণ্ঠে গাওয়া গান শ্রোতাদের মন জয় করেছে। গজল, শাস্ত্রীয় সংগীত ও আধুনিক ধারায় gleicher দক্ষতা ছিল তাঁর — প্রতিটি ঘরানাতেই তিনি সমান হাতে ছিলেন।

জীবনে তিনি পেয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ সম্মানগুলো: দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, পদ্মবিভূষণ এবং একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তাঁর গাওয়া অসংখ্য গান আজও কালজয়ী হিসেবে ঝাঁপিয়ে আসে মানুষের স্মৃতিতে।

আশার প্রয়াণে চলচ্চিত্র ও সংগীত জগতের বহু নামি-দামী তারকা শোক জানিয়েছেন। শাহরুখ খান, কাজল, শ্রেয়া ঘোষাল, কারিনা কাপুর খান, ভিকি কৌশল, রাম গোপাল ভার্মা, আনু মালিক, কমল হাসান, জুনিয়র এনটিআর সহ আরও অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী লিখেছেন, ‘আমরা অনেকেই আশা জির গান শুনেই বড় হয়েছি; তাঁর কণ্ঠ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।’ দক্ষিণি তারকা রামচরণ বলেছেন, ‘ভারতীয় সংগীতের এটি অপূরণীয় ক্ষতি; তাঁর কণ্ঠ ছিল খাঁটি জাদু।’ মিলিন্দ সোমান তাঁকে ‘একজন কিংবদন্তি’ হিসেবে স্মরণ করেছেন এবং শ্রদ্ধা কাপুরসহ অনেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

গতকালের রাত থেকেই আশা ভোসলের বাসভবনে ভিড় করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ—সেখানেই উপস্থিত ছিলেন জাভেদ আখতার, শাবানা আজমি, এ আর রাহমান, বিদ্যা বালনসহ আরও অনেকে। আজ পুরো দেশে শ্রোতারা শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন এবং তাঁকে শেষ বিদায়ে নিবেদিত করছেন।

আশা ভোসলের কণ্ঠ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করবে—তার কালজয়ী গান, শিল্পী হিসেবে অর্জিত মর্যাদা এবং সাংস্কৃতিক অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।