কুয়েতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ওয়াশিংটন একটি নতুন ১০ দফার কূটনৈতিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংশ্লিষ্ট সূত্র এই তথ্য জানিয়ে দিয়েছে। কুয়েতের সংবাদমাধ্যম আল-জারিদার রিপোর্টে এই প্রস্তাবকে দ্বিতীয় দফার আলোচনার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রথম দফার আলোচনা ইসলামাবাদে ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক আয়োজনের বিদ্যমান কূটনৈতিক যোগাযোগ তীব্র হয়েছে। এমন সময় মার্কিন গণমাধ্যমে সম্ভাব্য নতুন প্রস্তাব ফাঁস হওয়ার খবর আসে, যা কূটনৈতিক মঞ্চে নতুনোভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
ইরানের সূত্র জানায়, প্রথম দফায় অংশ নেওয়া একজন মার্কিন কর্মকর্তা—যাকে প্রতিবেদনে ‘জে.ডি. ভ্যান্স’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—শেষ মুহূর্তে তেহরানে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন। সূত্রটি বলেছে, ওই প্রস্তাবের চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির পর।
সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক আলোচনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আংশিক ঐকমত্য গড়ে উঠায় নতুন প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। প্রস্তাবের মূল উপাদানগুলোতে রয়েছে: ইরানের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর, আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় তেহরানের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বৈরী ক্রিয়াকলাপ বন্ধের শর্ত।
এছাড়া প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে একটি সময়সীমার জন্য (প্রতিবেদন অনুসারে ১০ বছর) স্থগিত রাখা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়া এবং আঞ্চলিক পারমাণবিক কনসোর্টিয়াম গঠনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। তদুপরি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর অথবা আন্তর্জাতিক নজরদারিতে রাখতে বলা হয়েছে।
প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালীকে সম্পূর্ণভাবে নৌচলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যৌথ তত্ত্বাবধানের কথাও উল্লেখ আছে। এছাড়া ৩০০ কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন স্থগিত রাখা, বিদেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ নির্দিষ্ট শর্তে ফেরত দেওয়া এবং চূড়ান্ত চুক্তি পর আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা প্রস্তাবে স্থান পেয়েছে।
তবে এ বিষয়ে এখনো ওয়াশিংটন কিংবা তেহরান থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ চলমান; প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে আরও আলোচনা ও সমঝোতার সুযোগ তৈরি হলে তা দ্বিতীয় দফা বৈঠকে প্রভাব ফেলতে পারে।





