বুধবার, ১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সংস্কার পরিষদ না হলে সংকট ভোগ করবে বিএনপি সরকার: নাহিদ ইসলাম

বিরোধী চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সংস্কার পরিষদ চলমান না হলে সৃষ্ট সংকটের পুরো ফল ভোগ করতে হবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে। তিনি বলেছেন, দেশের পরিস্থিতি দ্রুত যুদ্ধোক্ত মুখাপেক্ষী হয়ে উঠছে এবং জাতীয় ঐক্য বজায় রেখে তৎপরতা নেওয়া জরুরি।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্য ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম মূল অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

নাহিদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে তিন ধরন의 দাবি উঠে এসেছিল—বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফ্যাসিবাদ মোচনের ডাক দিল, বিএনপি নির্বাচন জানালো, আর আমরা (এনসিপি) সংস্কারের জন্য গণপরিষদের দাবি তুলেছিলাম। পরে বিএনপি সংস্কার আলোচনায় অংশ নেওয়ায় আমরা গণপরিষদের পরিবর্তে সংস্কার পরিষদের দাবিতে আপোস করেছি।

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি এখন একটি কৃত্রিম বিরোধ গড়ে তুলছে। তারা জুলাই সনদ ও জুলাই আদেশকে আলাদা করার চেষ্টা করছে এবং জুলাই সনদকে নিজেদের দলের ইশতেহার বানিয়ে ফেলেছে; এর ফলে গণভোটের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নাহিদ বলেন, সংবিধানের ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তাই গাঠনিক ক্ষমতার সংস্কারের জন্যই সংস্কার পরিষদের প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপি এসব মেনে নিয়েছিল, কিন্তু এখন তারা কথার বরখেলাপ করেছে এবং গণভোটের রায়কে অবহেলা করেছে।

গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যান করলে সরকারকে তা ভোগ করতে হবে—এমন সতর্কবাণীও দেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘‘এখন আমাদের যুদ্ধপরিস্থিতি সম্পর্কিত প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা উচিত—জাতীয় স্বার্থ কীভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে রক্ষা করা হবে, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকট কীভাবে মোকাবেলা করা যাবে।’’

নাহিদ আরো মন্তব্য করেন, গত ১৬ বছরে যে সংস্কারের কথা বলা হয়েছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে সংস্কারের মডেল উপস্থাপন করেছিল, সেগুলো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এই অব্যবস্থাই জাতিকে দুর্যোগে টেনে এনেছে, যার দায়ভার এবং পরিণতি বিএনপিকে বহন করতেই হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘এর পরিণতি সাধারণ হবে না।’’

সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সংস্কার পরিষদ গঠন ও তা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে নাহিদ সরকারকে অনুরোধ করেন, জাতীয় ঐক্য বজায় রাখুন—না হলে এর ফল আপনাদের ভোগ করতে হবে।

সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভাপতি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।