বৃহস্পতিবার, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অগণিত রেকর্ড ভেঙে এবার নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য বড় প্রাইজমানি ঘোষণা

নারী ক্রিকেট দ্রুতই এগিয়ে চলেছে বিশ্বজুড়ে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবার নতুন করে অসামান্য এক উদ্যোগ নিল। ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, যার জন্য আইসিসি ঘোষণা করেছে একটি রেকর্ড পরিমাণ অর্থপ্রাপ্তি, যা আগের আসরটির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই সিদ্ধান্ত নারী ক্রিকেটে বিনিয়োগ ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আসন্ন এই টুর্নামেন্টটি ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে মোট প্রাইজমানি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৭ লাখ ৬৪ হাজার ৬১৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ১০৮ কোটি বাংলাদেশি টাকা)। এর আগে ২০২৪ সালে এই অর্থ ছিল প্রায় ৭৯ লাখ ৫৮ হাজার ডলার, অর্থাৎ এ যাবৎকালের মধ্যে প্রাইজমানির বৃদ্ধি প্রায় ১০ শতাংশ। এই বৃদ্ধি শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ার সাথে সঙ্গে নারীদের খেলার গুরুত্ব বাড়ার সুসংবাদ দিচ্ছে।

চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ২৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার (প্রায় ৩০ কোটি টাকা), আর রানার্স-আপ দল পাবার সম্ভাবনা ১১ লাখ ৭০ হাজার ডলার (প্রায় ১৫ কোটি টাকা)। সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই দল প্রত্যেকে পাবেন ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলার (প্রায় ৯ কোটি টাকা)। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে জয়ী দলের জন্য প্রতিটি ম্যাচে পুরস্কার হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে ৩১,১৫৪ ডলার (প্রায় ৪০ লাখ টাকা)। এই অর্থের মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ১২টি দলই ন্যূনতম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ ডলার বা প্রায় ৩.৫ কোটি টাকা নিশ্চিতভাবে পাবে।

এবারের টুর্নামেন্টে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো ১২টি দল এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে, যা প্রতিযোগিতাকে আরও জৌলুসময় ও চ্যালেঞ্জিং করে তুলবে। আগে যেখানে দলসংখ্যা কম থাকাতে সুযোগ-সুবিধা ও প্রতিযোগিতার মাত্রা সীমিত ছিল, বর্তমানে আরও বেশি দেশের নারী ক্রিকেটাররা এই মহাযজ্ঞে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতা দেখানোর সুযোগ পাবেন।

আইসিসির প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্তা বলেন, “নারী ক্রিকেটের বিকাশ এখন দ্রুতগামী। দলসংখ্যা বাড়ানো এবং রেকর্ড পরিমাণ প্রাইজমানি আমাদের বৈশ্বিক ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলছে।” তিনি আরও আখেরগেছেন, বিনিয়োগের এই বৃদ্ধি নারীদের ক্রীড়াঙ্গনে উপস্থিতি ও প্রভাবও অনেক বাড়িয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এই বিশ্বকাপ দর্শকসংখ্যা ও সম্প্রচারের ক্ষেত্রেও নতুন রেকর্ড করবে।

প্রতিযোগিতাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য আইসিসি ইতিমধ্যে ট্রফি ট্যুরের সূচনা করেছে। লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ট্রফির প্রদর্শনী দিয়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়, এরপর ট্রফি নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডে যাবে। মে মাসজুড়ে ইংল্যান্ডের লিডস, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম, ব্রিস্টল, সাউথাম্পটন ও লন্ডনের বিভিন্ন শহরে দর্শকদের জন্য ট্রফি দেখার সুযোগ থাকবে। এর মাধ্যমে টুর্নামেন্টের উত্তেজনা আরও বাড়বে।

অঘোষিত ঘোষণা অনুযায়ী, এই বিশ্বকাপ শুরু হবে ১২ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ড মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কার। পুরো টুর্নামেন্টে মোট ৩৩টি ম্যাচ হবে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ভেন্যুতে, যার মধ্যে ফাইনালও থাকবে।