বৃহস্পতিবার, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আশা ভোসলে চিরবিদায়, সুরের অমর বাণী বিলীন পঞ্চভূতিতে

ভারতীয় সংগীতের একজন অগ্রগণ্য শিল্পী আশা ভোসলে সোমবার মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে পঞ্চভূতিতে মিলিয়ে গেলেন। তার শেষকৃত্যটি সম্পন্ন হয় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়, যেখানে উপস্থিত হন পরিবারের সদস্য, সহকর্মী, এবং লাখো ভক্ত-অনুরাগীরা। আশা ভোসলের ছেলে আনন্দ ভোসলে তার চেহারায় মুখাগ্নি করে শেষ বিদায় জানান তার প্রিয় মাতৃবিহীন সুরের মহাযাত্রাকে। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে। 

গতকাল সকালে মুম্বাইয়ের লোয়ার পারলে অবস্থিত তার বাসভবন ছিল ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও শুভানুধ্যায়ীদের এক মিলনমেলা। তবে সেই পরিবেশ ছিল শোকের ছায়া ঘেরা, আনন্দের পরিবর্তে ছিল গভীর শ্রদ্ধা ও শোকের ছড়াছড়ি। তার বোনকে শেষ বিদায় জানাতে হাজির ছিলেন প্রবীণা গায়িকার মতি মীনা খাড়িকর। এছাড়াও ছিলেন চলচ্চিত্র ও সংগীত জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা – অভিনেতা আমির খান, ক্রিকেটের মহাতারকা শচীন টেন্ডুলকার, সংগীত পরিচালক এ আর রহমান, অভিনেত্রী টাবু, আশা পােখ, নীল নীতিন, মুকেশ, জ্যাকি শ্রফসহ আরও অনেকে। রাজনৈতিক নেতারাও সমবেদনা জানাতে উপস্থিত হন লোয়ার পারলেতে। 

আশার মরদেহ এরপর তার প্রিয় শিবাজি পার্কের শ্মশানে নেওয়া হয়। তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তার শববাহি গাড়ি ছিল সাদা-পলটাইবেল দিয়ে সাজানো, যার গায়ে ছিল হলুদ-সাদার ফুলের মালা। রাস্তার দু’ধারে ছিল অবর্ণনীয় ভক্ত-অনুরাগীর ঢল, যারা চোখের জল অঝোরভাবে দিয়ে চিরতরে বিদায় জানিয়েছেন সুরের এই মহান শিল্পীকে। শ্মশানে উপস্থিত ছিলেন বিনোদন বিশ্বের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা, ক্রীড়া ও রাজনীতির অঙ্গনের নেতাকর্মী। 

আশা ভোসলে ১৯৪৩ সালে সংগীত জীবনের সূচনা করেন। তখন তার বয়স কেবল ১০ বছর। আট দশকের অধিক সময় ধরে তিনি সংগীতের জগতে বিচরণ করেন। তার গানের রেকর্ড সংখ্যা বিশাল—প্রায় ১২ হাজারের বেশি গান তিনি গেয়েছেন বলে মনে করা হয়। তিনি শুধু হিন্দি নয়, ভারতের মোট ২০টি ভাষায় গান রেকর্ড করেছেন। তিনি গানের জগতে অসামান্য অবদান রেখে ভারত সরকার ২০০৮ সালে তাকে পদ্মভূষণ সম্মাননা প্রদান করে। ২০১১ সালে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে তার নাম আসে, সর্বাধিক সংখ্যক গান রেকর্ডকার হিসেবে। 

আশা ভোসলের প্রথম বিয়ে হয়েছিল ১৬ বছর বয়সে, গায়ক গণপতরাও ভোসলে’র সঙ্গে। কিন্তু ১৯৬০ সালে তারা আলাদা হয়ে যান। এরপর ১৯৮০ সালে তিনি আরডি বর্মনের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দুর্ভাগ্যবশত, ১৯৯৪ সালে তার স্বামী আরডি বর্মন মৃত্যুবরণ করেন। তার জীবনে দু’টি বিয়ে করলেও, সংগীতের প্রেমে তিনি ছিলেন অটুট। আজ তাঁর মৃত্যুর খবর কাঁদিয়েছে পুরো বন্ধুরা, পরিবার, সহকর্মী ও ভক্তদের। সুরভরা জীবনে তিনি অমর হয়ে থাকবেন সবার মনে।