ভারতের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে রোববার চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়। শনিবার সন্ধ্যায় বুকে ব্যাথা অনুভব করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন আশা। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার পরও সংবেদনশীল এই শিল্পীর জীবনযাত্রা শেষ হয়।
আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে সংগীত এক গভীর শোকের ছায়ায় ঢেকে গেছে। তার এই শোকাবহ সংবাদ নিজেকে সামলাতে পারেননি উপমহাদেশের অন্যতম কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা। তিনি গণমাধ্যমে বলেন, “পৃথিবীর বড় বড় দুইজন কিংবদন্তি শিল্পী পরপর চলে গেলেন। লতা মঙ্গেশকর দিদি গত বছর চলে গেলেন, আর এখন আশা দিদিও অত💐তৎ চলে গেলেন। এমন শিল্পী এই পৃথিবীতে আর কেউ জন্ম নেবে না বলে মনে হয়। আমার জন্য মনে হচ্ছে, আমার পৃথিবীটাই এখন খালি।”
তিনি ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন, বললেন, “তাদের দুজনেই আমাকে মা থেকে যেন বেশি স্নেহ করতেন। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমার শেষ দেখা হয়েছিল তাঁর সঙ্গে যখন আমি আমার গাওয়া গানের রেকর্ডিং করছিলাম—‘চলে যাওয়া ঢেউগুলো আর ফিরে আসেনি’। এরপর ফোনে যোগাযোগ হলেও কিছুদিন পর আবার কথা বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আর সে সুযোগ হয়ে ওঠেনি। শেষ কথাগুলোও বলা হলো না।”
রুনা লায়লা আরও যোগ করেন, “যখন মনে হচ্ছিলো দিদিকে ফোন করব, যদি তখনই করে থাকতাম, হয়তো আজ এই আফসোসটা থাকত না। এই কষ্টটা ভাষায় প্রকাশ করা সত্যিই কঠিন।”
আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে সংগীতের জগতে এক যুগের অবসান ঘটল। তিনি কয়েক দশকের ক্যারিয়ারে হাজারো জনপ্রিয় গান ও অসংখ্য কালজয়ী সুর উপহার দিয়ে অজস্র প্রজন্মের হৃদয়ে আজও শক্ত مقام ধরে রেখেছেন। তার এই প্রয়াণে এক সোনালি অধ্যায়ের অবসান ঘটল। সংগীতের এই মহা শিল্পীর অবদান চিরকাল স্মরণীয় থাকবে।





