তেরখাদা উপজেলার ছাগলাদাহ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দ্বীন ইসলাম বিরুদ্ধে জোরপূর্বক দোকান ঘর দখলের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছেন, বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করে তারা ন্যায় বিচার চাচ্ছেন। গত যোগ্য নির্ধারিত জমির ওপর দীর্ঘদিন থেকে ভোগদখল করে আসছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা, কিন্তু সম্প্রতি সৈয়দ দ্বীন ইসলাম তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হঠাৎ করে তাদের দোকান ভেঙে ফেলার ও লুটপাটের অভিযোগ করেন। অভিযোগকারীরা জানান, তাদের দীর্ঘদিনের হস্তগত জমি নদীভাঙনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা লাখ লাখ টাকা খরচ করে নদী রোধে কাজ করেন এবং ৮টি দোকান নির্মাণ করেন। এর মধ্যে বেশ কিছু ব্যাবসায়ী দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর ধরে সেখানে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু চরম অন্যায় করে দ্বীন ইসলাম দোকানগুলো ভেঙে ফেলে নিজস্ব মার্কেট নির্মাণ করেছেন। স্থানীয় সমাজসেবক এমদাদুল হক বলেন, যখন ইউনিয়নের জন্য জমির প্রয়োজন হয়েছিল তখনই জমি দিয়ে ছিলেন। ভুক্তভোগীরা জানান, দোকান ভাঙার সময় স্থানীয় ভারপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও ফল পাননি। ভুক্তভোগী ইয়াসমিন বেগম বলেন, “আমার স্বামী অসুস্থ, ছেলেমেয়েরা না খেয়ে জীবনযাপন করছেন। অনেক কষ্টে দোকান করেছি, কিন্তু হঠাৎ ভেঙে দেয়ায় আমরা অসহায়। চেয়ারম্যানের লোকজন মারপিটও করেছেন। এরপর উপজেলা প্রশাসনের কাছে বিচার চাইলে তারা আশ্বাস দিয়েছেন, দোকান ফিরিয়ে দেবেন। কিন্তু এখনো কিছুই পাননি।” দোকান মালিকের ছেলে বোরহান উদ্দিন বলেন, “আমরা খুবই অসহায়। সুষ্ঠু তদন্ত করে আমাদের জীবিকা চালানোর উপায় ফিরিয়ে দিতে চাই।’’ বাজারের প্রশাসনিক কমিটির সভাপতি মাসুম গাজী বলেন, “প্রথমে তরফদাররা দোকানদার ছিলেন। নদী ভাঙন রোধে তারা অনেক টাকা ব্যয় করেন। কিন্তু এরপর চেয়ারম্যান দ্বীন ইসলাম তার দলবল নিয়ে দোকানগুলো জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন।” স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ মনজুরুল আলম বলেন, “সাবেক চেয়ারম্যান দ্বীন ইসলাম জোড়া হত্যার মামলায় ৩২ বছর সাজাপ্রাপ্ত। তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমার চোখের সামনে দোকানগুলো ভেঙে দিয়েছে।” দ্বীন ইসলাম জানান, “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তখনকার সময় আমি কি বলেছি জানি না, তবে থানায় অভিযোগ করলে আমি জোরপূর্বক মার্কেট করছি বলে আসলে কিছু বলিনি। আমি বলেছি, এটা আমাদের জমি না, তবে সরকারি নির্দেশে কিছু করেছি।” তেরখাদা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহীদুল্লাহ বলেন, “দোকানদারদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে, বিষয়টি জানি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে পরিস্থিতির জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও ভুক্তভোগীদের মাঝে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।





