অনুরাগ বসু পরিচালিত বলিউড কাল্ট ক্লাসিক ‘গ্যাংস্টার: এ লাভ স্টোরি’ ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল মুক্তির ২০ বছর পূর্ণ করছে। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত এই ছবিটি সম্পর্কে সম্প্রতি পরিচালক নিজের কিছু অজানা ও মজার স্মৃতি শেয়ার করেছেন, যা সিনেমার ভক্তদের জন্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অনুরাগ জানান, সিনেমাটির মূল ধারণাটি আসলে মহেশ ভটের দেওয়া এক লাইন থেকেই এসেছে — “একজন গ্যাংস্টারকে তার প্রেমিকা ধোঁকা দিচ্ছে।” এই ছোট বীজ থেকে জন্ম নেয় পুরো গল্প। তখন অনুরাগ ‘লাইফ ইন আ মেট্রো’র চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করছিলেন, কিন্তু সেই কাজ থেকে বিরতি নিয়ে মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে তিনি ‘গ্যাংস্টার’র সম্পূর্ণ স্ক্রিপ্ট লিখে ফেলেন।
সিমরান চরিত্রের জন্য অনুরাগ অনেক অডিশন নিয়েছিলেন। বহু প্রতিযোগীর পর কঙ্গনা রানাউতকে প্রথমবার দেখেই মনে হয়েছিল তিনি নন্দিত চরিত্রের সেরা মিল। তবুও বাঁকে আগ্নেয়তা দেখিয়ে অনুরাগ কঙ্গনাকে নেওয়ার আগে আরও ৫–৬ দিন অপেক্ষা করেছিলেন, হয়তো আর কাউকে পাওয়া যাবে কি না—অবশেষে কঙ্গনাই হয়ে ওঠেন বলিউডের নতুন সেনসেশন।
একটি বিস্ময়ের মতো তথ্য—শুটিংয়ের সময় অনুরাগ বসু তখন ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। আশেপাশেররা বিশ্রাম নেয়ার পরামর্শ দিলেও, তিনি জেদ করে দক্ষিণ কোরিয়াতে শুটিংতে গেছেন—নিজের কথায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
বাজেট ছিল তুলনামূলকভাবে কম—সাড়ে তিন কোটি টাকার মতো (অনেকে ৩–৫ কোটি বলে থাকেন)। খরচ কমাতে ছোট একটি ইউনিটে কাজ করা হয়েছিল এবং ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডও নিজদল সামলাতো; অনুরাগ স্মৃতিচারণায় বলেছেন, তখন তারা নিজেদের খাবার রান্না করত—তিনি ডাল রাঁধতেন আর কঙ্গনা পেঁয়াজ কাটতেন।
কম বাজেট, পরিচালক ও অভিনেতাদের ব্যক্তিগত ত্যাগ আর নতুন প্রতিভার সংমিশ্রণে তৈরি এই ছবি কেবল বাণিজ্যিকভাবে সফলই হয়নি, বরং সাংস্কৃতিকভাবে ঝাঁকুনিও এসেছে। কঙ্গনা রানাউত ও এমরান হাশমির অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল এবং ২০০৬ সালের ২৮ এপ্রিল মুক্তির পর থেকে ছবিটি দ্রুত বক্স অফিসে সাফল্য পায়। রিপোর্ট অনুযায়ী ছবিটি বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৬.৮৫ কোটি টাকারও বেশি আয় করে।
প্রীতমের সুরে ছবির গানগুলো দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে—বিশেষ করে ‘ইয়া আলী’ আজও কালজয়ী সংগীত হিসেবে স্মরণীয়। কঙ্গনা তার প্রথম ছবির জন্য ৫২তম ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে ‘সেরা নবাগত অভিনেত্রী’ পুরস্কার জিএন।
উপরন্তু, অনেকেই মনে করেন ‘গ্যাংস্টার’ ছবিটি আংশিকভাবে ভারতের কুখ্যাত আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন আবু সালেম এবং অভিনেত্রী মনিকা বেদীর সম্পর্কের ছায়া থেকে অনুপ্রাণিত। এই ধারণাগুলো সময়ের সঙ্গে ছবির রহস্য ও চর্চাকে আরও গভীর করেছে।
অল্প বাজেট, ব্যক্তিগত কষ্ট ও সাহসী সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে গঠিত ‘গ্যাংস্টার’ আজও এক বিশেষ স্থানে দাঁড়িয়েছে—অনুরাগ বসুর দৃষ্টিভঙ্গি, কঙ্গনা ও এমরানের তীব্র অভিনয় এবং সুরকার প্রীতমের সংগীত মিলেই ছবিটিকে বলিউডের একটি কালজয়ী কাজে পরিণত করেছে।





