মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কেলেঙ্কারি: লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং ও কানাডা অধিনায়ককে ঘিরে আইসিসি তদন্ত

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কড়া তদন্তে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কানাডা দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তোলায় আইসিসি অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট গভীর তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে উঠে এসেছে নিশ্ছিদ্র উদ্বেগ সৃষ্টিকারী কিছু তথ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ভারতীয় গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের গ্যাংকে বিশ্বের মঞ্চে সরাসরি গুটিয়ে ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ করা হচ্ছে। বিশেষত কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোকে কেন্দ্র করে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। আইসিসি বর্তমানে কানাডা অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়ারের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছে।

জিজ্ঞাসাবাদের সূত্রে জানা যায়, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে গ্রুপ ম্যাচে বাজওয়ারের করা একটি ব্যয়বহুল ও অস্বাভাবিক ওভার থেকেই প্রথম সন্দেহ সৃষ্টি হয়। স্পট-ফিক্সিংয়ের শঙ্কায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তার মোবাইল ফোনও তল্লাশি করা হয়।

কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের (সিবিসি) এক তদন্তাত্মক প্রতিবেদনে সরাসরি লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নাম উঠে এসেছে। উক্ত গ্যাংকে কানাডা সরকার ইতিমধ্যেই সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে অন্যতম অভিযোগ রয়েছে দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের লক্ষ্য করে চাঁদাবাজি, গুলি ও সহিংসতা।

প্রতিবেদন আরও জানায়, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ব্রিটিশ কলম্বিয়ার সারে শহরের একটি রেস্তোরাঁয় প্রায় ২৫ জন ক্রিকেটারের একত্রিত হওয়ার সময় সেখানে দুটি ব্যক্তি নিজেকে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন এবং বাজওয়া ও আরেক তরুণ খেলোয়াড়কে উন্নতি না দেয়ার হুমকি দেন। ঘটনার এক সময় ‘নোয়া’ নামে এক ব্যক্তি নিয়েও হুমকির কথা প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে যারা একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

তদন্তকারীদের ধারণা, এই সিন্ডিকেট প্রশাসন ও খেলোয়াড়দের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজেদের পছন্দের লোক বসিয়ে ম্যাচ প্রভাবিত করতে চাইত। বিশেষত দিলপ্রীত বাজওয়ারকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে হঠাৎ অধিনায়ক করা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে যে হুমকি-তথ্যচাপ প্রয়োগ করে তাকে দলে রাখা ও পরে নেতৃত্বে বসানো হয়েছে।

সিবিসি প্রতিবেদনে বর্তমানে ক্রিকেট কানাডার সভাপতি অরবিন্দর খোসার নামও এসেছে; তাদের দাবি, হুমকি দেয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। খোসা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন এগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার সুনাম নষ্টের চেষ্টা। খোসা জানিয়েছেন তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট আমজাদ বাজওয়ারের সঙ্গে রেস্তোরাঁয় ঘটনার বিষয় নিয়ে কথা বলেছিলেন, যদিও আমজাদ বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেছেন।

প্রতিবেদন আরও উল্লেখ করেছে যে ক্রিকেট প্রশাসনের কিছু সিন্দিকেট সদস্য বাজওয়ারকে ক্ষমতায় আনতে বিভিন্ন প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। ‘নোয়া’ বলেন তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন তারা ম্যাচ ফিক্সিং করে অর্থ উপার্জন করতে চেয়েছিল, আর তাই তারা তাকে ক্ষমতায় আনতে আগ্রহী ছিল।

এছাড়া প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কানাডার সাবেক কোচ খুররম চোহানকে সাবেক সভাপতি আমজাদ বাজওয়া, সিইও সালমান খান ও বোর্ড সদস্য রানা ইমরান ম্যাচের নির্দিষ্ট অংশ ফিক্স করতে বলেছিলেন বলে অভিন্ন অভিযোগ আছে।

অবশ্য এই মুহূর্তে অনেক অভিযোগই তদন্তাধীন এবং আইসিসি কিংবা অন্য কোনও কার্যত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। সংশ্লিষ্ট কেউ যদি অভিযোগ অস্বীকার করে থাকেন সেটাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। তদন্ত চলছে, প্রমাণ-প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমনটাই বলতে দেখা যাচ্ছে আইসিসি সূত্রকে।

এই ঘটনার ফলে ক্রিকেট কানাডা, খেলোয়াড় ও প্রশাসনের ওপর চাপ বেড়েছে এবং বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীরা উৎসাহ-উদ্দীপনাহীন পরিস্থিতি সম্পর্কে অনুসরণ করে চলেছেন। পূর্ণতূল্য তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা দাঁড়ালে কঠোর হস্তে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।