শুক্রবার, ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নাট্যকর্মী তনু হত্যায় সাবেক সেনা হাফিজুরুর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ

বহুল আলোচিত কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। শুক্রবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা সদর দপ্তর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে, যা এই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এই নমুনা সংগ্রহের বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোঃ তরিকুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, নমুনা সংগ্রহের পর সেটা মেলানোর কাজ চালানো হচ্ছে, যার মাধ্যমে আসামীদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

প্রথমে, ২০১৭ সালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তনুর মরদেহের জামা থেকে তিনজনের ডিএনএ সংগ্রহ করেছিল, কিন্তু তা-matching সম্ভব হয়নি। এরপর, ২০২৩ের ৬ এপ্রিল মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই নতুন করে ডিএনএ ম্যাচ করার জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে ডিএনএ পরীক্ষা পরিচালনার অনুমোদন প্রদান করেন।

ডিএনএ পরীক্ষায় মিল পাওয়া তিনজনই সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য—সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান, এবং সৈনিক শাহিনুল আলম। এসব তথ্যের ভিত্তিতে, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর কেরানীগঞ্জে তার বাসা থেকে হাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করে পিবিআই। এরপর, বুধবার (২২ এপ্রিল) তাকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হয়। তখন তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর ৭ দিন রিমান্ড আদেশের জন্য আবেদন করেন, but আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বর্তমানে হাফিজুর রহমান রিমান্ডে রয়েছেন, এবং আগামী শনিবার তার রিমান্ড শেষ হবে। এরপর, শনিবার বা রোববার তাকে আবার আদালতে হাজির করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অতীতের ইতিহাস অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের এলাকায় টিউশনি থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরের দিন, সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের সংলগ্ন জঙ্গলে তার মরদেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়।

শুরুতে, থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশ গোয়েন্দা বিভাগের অবিরাম তদন্ত করেও কোনো সুরাহা করতে পারেনি। এই দীর্ঘ তদন্তের পর, পুলিশ সদর দপ্তর ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে মামলার নথি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর থেকে, প্রায় চার বছর ধরে পিবিআই এই মামলার তদন্ত চালাচ্ছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে দায়িত্বে আছেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোঃ তরিকুল ইসলাম।

তদন্তে দেখা গেছে, তনুর মরদেহের কাপড়ে তিন ব্যক্তির ডিএনএ ছিল, যার মধ্যে হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ডিএনএ মিলানোর কাজ বন্ধ থাকলেও, এখন নতুন করে সেটি সমাধানের পথে এগুচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় আসামীদের অপরাধমূলক সম্পর্ক ও সঠিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে পুলিশ।