বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হেঁটেছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, বিএনপি পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের পথ বেছে নিয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াত আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডা. শফিকুর বলেন, একসময় বিএনপি ও জামায়াত একযোগে নির্যাতিত ছিল; কিন্তু এখন বিএনপি সেই ভুল পথ ধরেছে এবং গতিপথ বদলে এক ধরনের কর্তৃত্ববাদী নীতিকে সমর্থন করছে। তিনি সতর্ক করে জানান, তারা একইভাবে জনগণের ওপর দমনকারীর ভূমিকা নিতে শুরু করেছে যেটা একসময়ের আওয়ামী লীগের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ যে কুক্ষিগত সময়গুলোতে লাঠিযুদ্ধ করে সমাজে ঘাসফুলের মতো কর্তৃত্ব গড়ে তুলেছিল, আজ সেই সময়গুলোতে তাদের পক্ষে দাঁড়ানো কেউ নেই — কিন্তু বিএনপি সেই একই কৌশল প্রয়োগ করছে।

বক্তব্যে তিনি দেশের মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। সুশাসন, প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপি অহরহ বিরোধিতা করছে — যা দেশের জন্য প্রতারণার শামিল, মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর বলেন, বিএনপি তাঁদের নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা ৩১ দফা কর্মসূচির বিরোধিতা করছে; এমনকি কিছু বিষয়ে তাদের বোধ ও নীতিগত জ্ঞান পর্যন্ত লোপ পেয়েছে বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

তিনি স্বাধীনতার জন্য যে আত্মত্যাগগুলো হয়েছিল সেই আত্মত্যাগকেন্দ্রিক স্মৃতিকে ভুলে যাওয়ার নিন্দা জানান। ‘জুলাই’ আন্দোলনের নাম টেনে তিনি বলেন, যদি সেই জীবনবল-নৈকট্য না থাকত, আজকার ক্ষমতাভোগীরা টিকে থাকতে পারত না। শহীদ পরিবার, আহত ও প্রতিবাদী নাগরিকদের ত্যাগকে ছোট করে দেখার বিরুদ্ধে তিনি কড়া ভাষায় বলেন — তাদের সম্মান করতে শেখো, তাদের তুচ্ছ করা যাবে না।

ডা. শফিকুর একটি ব্যক্তিগত স্মৃতিকথাও শেয়ার করেন; তিনি বলেন, যারা বিদেশে ছিলেন, দেশে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছেন—এ জন্যও সেই বিপ্লব দায়ী। জেলখানায় তাঁর সহকর্মী আল্লামা মামুনুল হক বলেছিলেন, কিছু নেতারা তখন মনে করতেন ৪১-এর আগে বর্তমান শাসনকে সরানো সম্ভব নয়; কিন্তু পরবর্তীতে ঘটনাবলী পরিবর্তিত হয়, যা ঈশ্বরের দান বলে অভিহিত করা হয়েছিল। এখন সেই দানকে ভুলে একজন আলাদা ‘মাস্টারমাইন্ড’ দাবি করাকে তিনি ভুয়া বলে আখ্যা দেন।

জামায়াত আমির সংসদে সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির সংঘাতের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সরকার শপথ নিয়েছিল কিন্তু প্রতিশ্রুতি রেখা ভঙ্গ করেছে; এরপর যেখানে আলোচনার দরকার ছিল আমরা নোটিশ দিয়েছি, কিন্তু তাদের বিরোধী মনোভাবই দেখেছি। কিছু আইন ও অধ্যাদেশ সংশোধন না হলে দেশ থেকে স্বৈরাচার দমন নীতি কেটে যাবে না বলে তিনি মনে করেন।

তিনি সাম্প্রতিককালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কিছু গোষ্ঠী থানা পর্যন্ত ঢুকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা করেছে; এগুলো হচ্ছে ফ্যাসিবাদের নমুনা। তিনি জানালেন, যে দিন কেউ গণভোটের রায় অস্বীকার করে, সেই দিন থেকেই বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটা শুরু করেছে।

শেষে ডা. শফিকুর বলেন, তারা এমন একটি বাংলাদেশ চান না যেখানে মানুষ নিরাপদে বাইরে বের হতে না পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দা-কড়াল নয়, খাতা-কলম দেখতে চান তিনি। যদি এই ক্ষমতাবান সংস্কৃতি ঠেকানো না হয়, জুলাইয়ের আন্দোলন বারবার ফিরে আসবে এবং একদিন ফ্যাসিবাদের কবর রচনাই ঘটবে—এটাই তার দাবি। তিনি জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখাতে এবং চলমান গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে সবাইকে আহ্বান জানান, নচেৎ লড়াই সংসদে ও খোলা ময়দানে অব্যহত থাকবে।