বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

একযুগের সঞ্চয় বজ্রপাতে ছাই, দম্পতির জীবন রক্ষা হলোও সবটাই পুড়ে গেছে

বাগেরহাটের চিতলমারীর দড়িউমাজুড়ি গ্রামে একজোড়া দম্পতির এক যুগ ধরে গড়া ছোট সংসার বজ্রপাতে ছাই হয়ে গেছে। রাত পোনে ১২টার সময় ঘটে যাওয়া আগুনে আনন্দ মিস্ত্রি (৪০) ও লোপা হালদার (৩৩) দম্পতির ঘরপোড়া সব имущества পুড়ে যায়;幸ৎ তখন তারা ঘরেই ছিলেন না, তাই জীবন রক্ষা পেয়েছে।

ঘটনাটি বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত পোনে ১২টার দিকে ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।夫妻দের এগারো বছর বয়সী মেয়ে সংগীতা পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী; ঘটনায় তার স্কুল জীবনে বাধা পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত দম্পতি আনন্দ মিস্ত্রি ও লোপা হালদার জানান, দিনমজুরি করে তারা সংসার চালাতেন। প্রায় এক যুগ ধরে তিলে তিলে সঞ্চিত সামান্য জিনিসপত্র আর ঘরবাড়ি গড়ে তোলেন—সবই এখন লুপ্ত। তাদের কথায়, “পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই বাকি নেই। আত্মীয়দের বাড়িতে না গেলে হয়তো আমরা পুড়ে মারা যেতাম।”

চিতলমারী ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের লিডার এস এম আব্দুর রহিম জানান, আগুনের খবর পেয়ে রাতেই তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবু তাদের পৌঁছানোর আগেই দম্পতির অধিকাংশ মালপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার ও বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মশিউর রহমান খানের প্রতিনিধি—উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা গাজী মুনিরুজ্জামান—পরিদর্শনে যান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

অপরাধ-প্রশ্ন না উত্থাপন করে তারা বলেন, প্রাথমিকভাবে শুকনো খাবার দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো হয়েছে; চাহিদা অনুযায়ী পরবর্তী সহায়তা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে দেয়া হবে।

স্থানীয় পরিবারটি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিঃস্ব; তাদের ফের ঘরবাড়ি ও জীবিকা পুনরুদ্ধারের জন্য তাত্ক্ষণিক সহায়তা প্রয়োজন। সংগীতার পড়াশোনাও এখন স্থগিত রয়েছে, যেটি দ্রুত স্বাভাবিক করতে পারলে পরিবারটিকে মানসিক সান্ত্বনা মিলবে।