বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভূমধ্যসাগরে নৌকাভাঙায় ২৬ অভিবাসীর প্রাণহানি

উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপগামী এক নৌকাপটকে ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারালেন কমপক্ষে ২৬ জন অভিবাসী—রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থেকে পালানোর পথে থাকা এসব মানুষ আট দিন ধরে সাগরে ভাসছিলেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আট দিন ধরে ভেসে থাকার পর বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের অভাবে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং আরও ৯ জন নিখোঁজ। তাতে মোট ২৬ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যাচ্ছে; পাশাপাশি ঘটনায় সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা লিবিয়ার ন্যাশনাল আর্মি নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সহযোগিতায় মিসর সীমান্তের কাছে পূর্ব লিবিয়ার তোবরুক শহরের উপকূল থেকে তাদের উদ্ধার করে। নিরাপত্তা সূত্রে বলা হয়েছে, নিখোঁজ নয়জনের মরদেহ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তীরে ভেসে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে হতাহতদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

যাত্রীদের অভিযোগ, নৌকাটি বিকল হয়ে দীর্ঘ সময় সাগরে ভাসার ফলে পানিশূন্যতা ও খাবার সংকট দেখা দেয় এবং একপর্যায়ে বহুজন মারা যান। লিবিয়া অনেক সাব-সাহারান আফ্রিকান অভিবাসীর জন্য ইউরোপে যাওয়ার প্রধান ট্রানজিট রুট; যুদ্ধ, সহিংসতা ও দারিদ্র্য থেকে বাঁচার আশায় অনেকে মরুভূমি ও সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বিপজ্জনক পথ বেছে নেন।

রেড ক্রিসেন্ট যে ছবি সামাজিকমাধ্যমে পোস্ট করেছে, তাতে দেখা গেছে উদ্ধারকর্মীরা মরদেহগুলো কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে পিকআপ ট্রাকে তোলা হচ্ছে—দুর্দশার চিত্র যা মানবপাচার ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাত্রার ভুক্তভোগীর বাস্তবতা উন্মোচন করে।

এই নৌকাপৎনের ঘটনায় লিবিয়ার বিচার বিভাগেরও অভিযান চলছে। ত্রিপোলি ফৌজদারি আদালত পশ্চিম লিবিয়ার জুয়ারার একটি ‘অপরাধী চক্র’-এর চার সদস্যকে মানবপাচার, মুক্তিপণের জন্য অপহরণ ও নির্যাতনের দায়ে সর্বোচ্চ ২২ বছরের কারাদণ্ড দেন, বলে অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছিলেন। একই সাথে তোবরুক থেকে অন্য একটি জরাজীর্ণ নৌকা পাঠানোর দায়ে আরেক চক্রকে গ্রেপ্তারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে; ওই নৌকাটির ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ৩৮ জন সুদানি, মিশরীয় ও ইথিওপিয়ান নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল।

অভিবাসনপ্রক্রিয়া নিরাপদ ও মানবিক করার আহ্বান জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিয়মিতভাবে মানুষ পাচার করে এমন পাহাড়িমুখী চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে দমন করা না গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে দ্রুততর মানবিক সহায়তা ও তদন্ত নিশ্চিত করার কথা বলা হচ্ছে।