বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সংসদে নাহিদ ইসলাম: রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করা হোক

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করা উচিত। তিনি আরও বলেছেন, এই ব্যক্তি বঙ্গভবনে থাকা বা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার রাখেন না।

এই মন্তব্য করেন নাহিদ সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতি ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে। ঘটনা ঘটেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিনে, বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল। অধিবেশনটি ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল পরিচালনা করছিলেন।

সংসদে বক্তব্যে নাহিদ বলেন, ‘‘রাষ্ট্রপতির বক্তব্য আমি শুনিইনি, পড়িওনি। সেই বক্তব্য এবং এখানে কথা বলার সুযোগ আমাদের পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি—এই রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করতে হবে। তার আর বঙ্গভবনে থাকার বা এখানে এসে বক্তব্য দেওয়ার কোনো অধিকার নেই।’’

নাহিদ আরও অভিযোগ করেন, সাহাবুদ্দিন আগে দুদকের কমিশনার ছিলেন এবং তাকে তিনটি নির্দিষ্ট ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এগুলো ছিল: খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার শাস্তি নিশ্চিত করা; পদ্মা সেতু সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ থেকে সরকারকে মুক্ত করা; এবং ফখরুদ্দিন মঈনউদ্দিন সরকারের সময় শেখ হাসিনা ও অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুর্নীতির মামলাগুলো বাতিল করা।

তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালে—যাকে তিনি ‘‘শেখ হাসিনার ক্যাঙ্গারু কোর্ট’’ বলছেন—সেই নির্দেশে সাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের একটি জুডিশিয়াল ইনকোয়্যারী কমিশন ২০০১ সালের সংখ্যালঘু নির্যাতন সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরি করে। নাহিদ দাবি করেন, ওই প্রতিবেদনে বিএনপির ২৬ হাজার নেতাকর্মী, ২০০১ সালে ক্ষমতাসীন থাকাকালে বহু হিন্দুকে হত্যা করার মতো অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল এবং সেই রিপোর্ট আওয়ামী লীগ তাদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে বহুল প্রচার করেছিল।

অধিকন্তু, নাহিদ অভিযোগ করেন, সাহাবুদ্দিন ইসলামী ব্যাংক লুটের ‘‘কর্তৃত্বকারী’’ এবং দুই কোটি আমানতকারীকে পথরে দিয়েছেন; তাঁর ভূমিকা ও সম্পর্ক জুলাই গণহত্যা ও ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত—এসব কারণে তিনি তাঁকে ‘দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ, মিথ্যুক, গণহত্যার দোসর’ বলে অভিহিত করেন। নাহিদ বললেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন দুদকের কমিশনার থাকাকালীন ফরমায়েশি রায় দিয়েছিলেন; তিনি ইসলামী ব্যাংক লুণ্ঠনের এজেন্ট এবং জুলাই ঘটনোয় সংশ্লিষ্ট—এই অপদার্থ ও মিথ্যুক রাষ্ট্রপতিকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।’’

বক্তব্যের এক পর্যায়ে নাহিদ স্মরণ করান যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্ররা তখন রাষ্ট্রপতির অপসারণ দাবি করেছিল। তখন বিএনপি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার দোহাই দিয়ে সাহাবুদ্দিনের পক্ষে দাঁড়ায়। নাহিদ প্রশ্ন করেন—এখন দেশের একটি নির্বাচিত সরকার আছে, তবুও কেন তাকে এখনো বদলানো হচ্ছে না?

এই অভিযোগ ও দাবিগুলো সংসদে উপস্থাপন করা হলেও, সরকার বা রাষ্ট্রপতির তরফ থেকে পর্যালোচিত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।