শুক্রবার, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অগ্রণী ব্যাংকের ক্যাশ অফিসারকে অর্থ আত্মসাৎ মামলায় ১০ বছর কারাদণ্ড

খুলনার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালত বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ অগ্রণী ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার সৈয়দ শিওন সাইফকে অর্থ আত্মসাৎ মামলায় তিনটি ধারায় মোট ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। আদালত তাকে ৩৬ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫০ টাকা জরিমানা করেছেন; জরিমানার অনাদায়ে আরও ৫ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড কার্যকর হবে। রায় ঘোষণা করেন বিভাগীয় স্পেশাল জজ মোঃ আশরাফুল ইসলাম।

আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন, দণ্ডবিধির ৪৬৮ ধারায় সাইফকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ হাজার টাকা জরিমানা (অনাদায়ে এক মাস বিনাশ্রম), ৪৭৯ ধারায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ হাজার টাকা জরিমানা (অনাদায়ে এক মাস বিনাশ্রম) ও ৪০৯ ধারায় ৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩৬ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫০ টাকা জরিমানা (অনাদায়ে তিন মাস বিনাশ্রম) দেয়া হয়েছে। এই তিন দণ্ড ধারাবাহিকভাবে চালু হবে, ফলে মোট সাজা দাঁড়ায় ১০ বছর এবং অনাদায়ে একযোগে পাঁচ মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ড।

আদালতে রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত সৈয়দ শিওন সাইফ পলাতক ছিলেন। তিনি নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার এনএসখোলা নওয়াগ্রামের বাসিন্দা, নাজমুল হকের ছেলে এবং বয়স ৪১ বছর বলে বর্ণিত হয়েছে। মামলার অপর আসামি ও ওই শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মিসেস সাফিয়া বেগমকে আদালত খালাস দিয়েছেন; তিনি বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ থানার বারইখালি গ্রামের মুজিবুর রহমান ফকিরের স্ত্রী।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোঃ ইয়াসিন আলী নথির উল্লেখে জানান, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক শাখায় সৈয়দ শিওন সাইফ ক্যাশ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ২০১১ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত; আর ব্যবস্থাপক সাফিয়া বেগম শাখায় ছিলেন ২০১৩ সালের ৩ মে থেকে ২০১৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ওই সময়ে তারা পরস্পর যোগসাজসে ব্যাংক শাখার বিভিন্ন ঋণ হিসেবে কাল্পনিক পোস্টিং (ভাউচার ছাড়া কম্পিউটারে এন্ট্রি) করে ২৩ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক দীপক কুমার কুন্ডু বাদী হয়ে মোরেলগঞ্জ থানায় মামলা নং-১১ দায়ের করেন। ২০১৭ সালের ২০ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক আবুল হাসেম কাজী অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেছেন অ্যাডভোকেট মোঃ আবুল হোসেন হাওলাদার। আদালতের রায়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় উপরের সাজা ও জরিমানা কার্যকর করা হয়।