বুধবার মুম্বাইয়ের বিশেষ আদালতে বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে হওয়া গুলি চালানোর ঘটনার নতুন বিবরণ উঠেছে। সালমানের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী আদালতে শুক্রবার জানান, ওই হামলা কেবল ভীতি দেখানো নয়—এটি সরাসরি তাকে হত্যা করার একটি চেষ্টাই ছিল।
এই মামলার বিচার গত মাসে শুরু হয় এবং দেহরক্ষীকে প্রথম সাক্ষী হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুসারে, দেহরক্ষী ১৪ এপ্রিল ২০২৪-এর ভোরে ঘটার পুরো বিবরণ আদালতে তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা সাতটা থেকে তিনি তার রাতের শিফটে ছিলেন এবং গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের হুমকির কারণে সেই সময় সালমানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল।
দেহরক্ষী বলেন, ভোর চারটার দিকে পটকা ফাটার মতো শব্দ শুনে সিসিটিভি পর্যালোচনা করতেই দেখা যায় হেলমেট পরা দু’জন ব্যক্তি একটি বাইকে চেপে এসে বাড়ির দিকে তাক করে গুলি চালাচ্ছে। বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি মহেশ মূলের সামনে প্রদর্শিত সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মামলার সাক্ষী হামলাকারীদের শনাক্তও করেছেন।
তিনি আরও জানান, হামলাকারীরা চার থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলি চালানোর পর ‘আই লাভ বান্দ্রা পয়েন্ট’ ও মেহবুব স্টুডিও রোডের দিকে পালিয়ে যায়। সাক্ষ্য বলছে, হামলার সময় সালমান দোতলায় নিজের বেডরুমে ছিলেন—এবং এই পরিস্থিতিতে দেহরক্ষী জোর দিয়ে জানিয়েছেন এটি সরাসরি হত্যার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি হামলা ছিল।
দেহরক্ষী আদালতে বলেছেন যে তিনি নিরাপত্তা কেবিনে অবস্থান করছিলেন এবং আক্রমণের সময় কণ্ঠস্বর শুনেছেন, যদিও আগে থেকে থাকা হুমকির বিষয়ে তিনি ততটা অবগত ছিলেন না। পুলিশের তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রম বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।
অন্যদিকে শনিবার আদালতে উপস্থাপিত এক সাক্ষী জানান, তিনি লবিতে বসে ছিলেন এবং গুলি চালা দেখেননি, কিন্তু ঘটনাস্থলের কাছাকাছি কার্তুজের খোসা দেখতে পান। পুলিশের বক্তব্যে বলা হয়েছে, অভিযোগে ভিকি গুপ্তা ও সাগর পাল বাইকে করে এসে গুলি চালিয়েছে, আর মোহাম্মদ রফিক সরদার চৌধুরী হামলার দুই দিন আগে ঘটনাস্থল রেকি করে সেই ভিডিও অনমোল বিষ্ণোইকে পাঠিয়েছিলেন।
এই ঘটনার পর থেকে পুলিশি তদন্ত ও মামলার শুনানি চলমান। আদালতে দেহরক্ষীর প্রমাণ ও সিসিটিভি ফুটেজের ওপর ভিত্তি করেই দেখা হচ্ছে কিভাবে অভিযোগের নতুন এই বিবরণ মামলার দিক পরিবর্তন করবে।





