সোমবার, ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

খুলনায় অভিভাবকহীন ছাত্রদল: সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির, পদপ্রত্যাশীরা লবিংয়ে

খুলনায় দীর্ঘদিন ধরে কোনো শক্তিশালী শীর্ষ নেতৃত্ব না থাকায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কার্যক্রম স্তিমিত হয়ে পড়েছে। মহানগর ও জেলা পর্যায়ের পুরনো কমিটি বিলুপ্ত হওয়ায় দলের স্থানীয় শাখাগুলোতে কার্যত ‘অভিভাবকহীন’ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই নতুন কমিটি গঠনের জন্য বিভিন্ন নেতার মধ্যে তৎপরতা ও লবিং বাড়ছে।

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, খুলনা মহানগর ছাত্রদলের বর্তমান দাব্দা কমিটি ২০২১ সালের ২৪ মার্চ গঠন করা হয়েছিল। তখন ইশতিয়াক আহমেদ ইস্তিকে আহবায়ক এবং তাজিম বিশ্বাসকে সদস্যসচিব করা হয়েছিল। ওই কমিটি মহানগরের ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টিতে, ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৫টি থানায় ইউনিট কমিটি গঠন করে সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তিন বছর পর, ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মহানগর কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

জেলা ছাত্রদলের পরিস্থিতি আরও দীর্ঘস্থায়ী। ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর মান্নান মিস্ত্রিকে সভাপতি ও গোলাম মোস্তফা তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত জেলা কমিটি আট বছর দায়িত্ব পালন করেছে। সেই সময় তারা জেলার ৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ৯টি থানায় ইউনিট কমিটি গঠন করেছিল। মহানগরের মতোই ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এই জেলা কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তিত পরিপ্রেক্ষিতে মহানগর ও জেলা কমিটিগুলোকে মেয়াদোত্তীর্ণ ঘোষণা করে বিলুপ্ত করেছে বলে জানানো হয়। কেন্দ্রীয় নেতারা প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানালেও, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন কমিটি করা সম্ভব হয়নি। ফলে মাঠে কিছু ইউনিট কমিটি কার্যকর থাকলেও শীর্ষ নেতৃত্ব না থাকায় খুলনায় organisational শৃঙ্খলা ও কার্যক্রমে বড় ধরনের خلل দেখা দিয়েছে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নতুন কমিটি গঠনের জন্য ব্যাপক যাচাই-বাছাই ও তদারকি চলছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল নিজে এই প্রক্রিয়া তদারকি করছেন বলে সূত্ররা জানায়।

মহানগর ছাত্রদলের শীর্ষ পদ নিয়ে বিভিন্ন নাম আলোচনা কেন্দ্রstage; উল্লেখযোগ্য পদপ্রত্যাশীর মধ্যে আছেন সাবেক সদস্যসচিব তাজিম বিশ্বাস, আরিফুল ইসলাম আরিফ, হেদায়েত উল্লাহ দিপু, মোঃ শাকিল আহমেদ, মাজহারুল ইসলাম রাসেল, আব্দুল হক শাহিন, হাসান ফকির, সৈয়দ ইমরান, নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া, রাজু আহমেদ, আব্দুস সালাম, রাশিউর রহমান রুবেল, রাজিবুল ইসলাম বাপ্পি, নাজমুল ইসলাম ও মুশফিকুর রহমান অভি।

জেলা ছাত্রদলের নেতৃত্বে সাড়া জাগানো প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন গাজী শহিদুল, মাসুম বিল্লাহ, মশিউর রহমান শফিক, ফিরোজ আহমেদ আদল, অনিক আহমেদ, ইয়ামিন ইসলাম, ইসমাইল হোসেন খান, আবু জাফর ও ইমতিয়াজ সুজন।

জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা অনিক আহমেদ বলেন, ‘‘মামলার বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে এবং ত্যাগ-কৃত নেতাদের গুরুত্ব দিয়ে কমিটি করা হলে সত্যিকার সৎ ও নিষ্ঠাবান নেতারা নেতৃত্বে আসবে।’’ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব তাজিম বিশ্বাস বলেন, ‘‘ছাত্রদল বিএনপির সহযোগী সংগঠন হলেও এটি দলের প্রাণ। ছাত্রদলের মাধ্যমে নতুন কর্মীরা দলের সঙ্গে যুক্ত হয়; দেশের বর্তমান সংসদের অনেক মন্ত্রী-এমপি একজন সময়ের ছাত্রনেতা ছিলেন। দলকে গতিশীল রাখতে দ্রুত নতুন কমিটি প্রয়োজন।’’

এ সময় দলীয় কর্মীরা বলছেন, নতুন কমিটি ঘোষণা হলে খুলনার স্থানীয় সংগঠনগুলোতে কার্যক্রম পুনরায় ঝোঁক ফিরে আসবে এবং যুব নেতৃত্বের প্রতি মানুষের আস্থা দীর্ঘমেয়াদে ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে। তবে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণায় কেন্দ্রীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির ওপর নির্ভর করবে বলে অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো মন্তব্য করেছে।