বন ও উপকূলীয় মাছ ধরাকে নিরাপদ করতে দক্ষিণ অঞ্চলের বিশেষ অভিযানে সফলতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু সংগঠনের প্রধান মোঃ জাহিদুল ইসলাম ওরফে ‘মেজ জাহাঙ্গীর’ (৫৬) কে আটক করা হয়েছে; তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও লাইভ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়—এই তথ্য কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন নিশ্চিত করেছেন।
কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের সূত্রে জানা যায়, সরকার গ্রহনকৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বর্তমানে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” ও “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামের দুটি সাঁড়াশি অভিযান চলছে। সেই অভিযানেরই অংশ হিসেবে ১২ মে রাত পেয়ে ১টার দিকে বিসিজিএস তৌহিদ-এর নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ইকরা মোহাম্মদ নাসিফের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল সুন্দরবনের শিবসা নদীর আদাচাই ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কালীর খাল এলাকায় তল্লাশি চালান।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানে মেজ জাহাঙ্গীরকে হাতেনাতে আটক করা হয়। কোস্টগার্ড সদস্যদের উদ্ধারকৃত জিনিসপত্রের মধ্যে রয়েছে ২টি একনলা বন্দুক এবং ৫ রাউন্ড তাজা গুলি। আটক ব্যক্তির স্বীকারোক্তি ও তালিকার ভিত্তিতেই এসব উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে।
আটক মোঃ জাহিদুল ইসলাম নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার বাসিন্দা। বহুদিন ধরেই তিনি সুন্দরবনের গভীরে নিজের একটি বাহিনী গঠন করে রেখেছিলেন এবং স্থানীয় জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, জেলেদের আহরিত মৎস্য সম্পদ লুণ্ঠনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বিসিজিএস তৌহিদ-এর নির্বাহী কর্মকর্তা লে. ইকরা মোহাম্মদ নাসিফ জানান, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বন ও জলদস্যু তৎপরতা পুনর্বার বাড়তে শুরু করে। এরপর বিভিন্ন বাহিনীর তৎপরতার কারণে কিছুটা সঙ্কুচিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যস্ততা সুযোগ নিয়ে কয়েকটি স্বার্থান্বেষী মহল সুন্দরবনে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা করেছিল। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় কোস্টগার্ড “জিরো টলারেন্স” নীতিতে অভিযান পরিচালনা করছে।
নাসিফ আরও জানান, গত কয়েক মাসে করিম শরীফ, ছোট সুমন, ছোট জাহাঙ্গীর, বড় জাহাঙ্গীর, নানা ভাই, আসাবুর ও আলিফ বাহিনীর মতো একাধিক দস্যু দলকেও এসব অভিযানের মধ্য দিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত কিছু দলে এখনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছে; তাদেরকেও ধাপে ধাপে নির্মূল করা হবে বলে তিনি জানান।
জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং আটককৃত জাহিদুল ইসলামকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। কোস্টগার্ড পাল্টা জানিয়েছে, বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের সমূলে নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে এই ধরনের বিশেষ অভিযান ও টহল অব্যাহত থাকবে।





