বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সরকার উন্নয়নের নামে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে: গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সাংসদ মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশের উন্নয়নের নামেও সরকার বৈষম্যমূলক আচরণ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করে তোলার দাবি জানান, যা দীর্ঘদিন ধরে রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের মানুষের একটাই প্রত্যাশা। যদি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কেবল নির্বাচিত এলাকার স্বার্থে নেওয়া হয় বা অন্যত্র স্থাপন করার সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে এটি হবে অমানবিক ও অত্যন্ত অন্যায়। শনিবার সকাল সাড়ে আটটায় পঞ্চগড় যাওয়ার সময় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নামার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এই সফরে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আব্দুল হালিম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এড. আতিকুর রহমান ও সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী।

তাঁর বক্তব্যে গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি’র নির্বাচিত এমপিদের এলাকার ভিত্তিতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হচ্ছিলো, যেমন নতুন উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন। কিন্তু দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে এই সমস্ত কাজগুলো বিভিন্ন অঞ্চলে ভাগ করে নেওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, ‘প্রবাদ আছে, যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ। এখন তা-ই সত্য হয়ে উঠছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তারা ৭০ ভাগ জনগণের মতামত উপেক্ষা করে প্রতারণার রাজনীতি চালাচ্ছে। নির্বাচনের সময় যাঁরা “হ্যাঁ” ভোট দিয়েছিলেন, এখন তারা গণভোটের রায় অমান্য করছে। সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও বাস্তবে গণভোটের রায় মানছে না, যা জনগণের সঙ্গে মহাপ্রতারণা। বিএনপি জনস্বার্থের ক্ষে’ত্রে ব্যাকফুটে পড়ছে, যে কারণে দেশের জন্য ভয়াবহ ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।’

গণমাধ্যমের পরিস্থিতি নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন, বলে, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় যারা স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে ছিলেন, এখন তারা সরকারের বিভিন্ন মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ, সাংবাদিকদের চাকরি হারানো ও হয়রানির সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে সমালোচক সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এসময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল, সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমির শফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম, শহর জামায়াতের আমির শরফুদ্দিন খান, সেক্রেটারি মাওলানা ওয়াজেদ আলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শহর সভাপতি আব্দুল মোমিনসহ আরও শতাধিক নেতা-কর্মী। পরে সব সফরসঙ্গীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি সড়ক পথে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।