বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মির্জা ফখরুলের ভাষ্য: হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজকে অস্থির করতে চায়

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী রয়েছে, যারা সারাক্ষণ নিজেকে অসন্তুষ্ট মনে করে আর সমাজকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালায়। তিনি স্পষ্ট করে বললেন, এই অপচেষ্টাকারীরা কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, বরং তারা সমাজের শান্তি ভেঙে দেয়ার জন্য কাজ করে। তিনি মন্তব্য করেন, আমাদের রাজনীতি এখন সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নয়। বারবার মানুষ পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছে, জীবন দিয়েছেন, পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই চেষ্টাগুলি সফল হয়নি। শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল আরো বলেন, আমাদের মূল পরিচয় হলো এ দেশের সন্তান হিসেবে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত থাকা—আমরা বাংলাদেশেরই সন্তান। এই স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য আমরা দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করেছি, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আবার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনেয়ার জন্যও আমাদের সংগ্রাম চালাতে হয়েছে। তিনি বলেন, গত জুলাই মাসে আমাদের তরুণ-তরুণীরা যে লড়াই করে দেশকে পরিবর্তনের পথে নিয়ে আসে, তাকে আমরা ‘জুলাই যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করি। সত্যিকারভাবে এই আন্দোলনের কারণে নতুন নির্বাচন হয়েছে ও নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। তারা আশা করে, এখন জনগণ নতুন সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। তবে কিছু অপশক্তি দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তারা দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে—অর্থনীতি লুটপাট, ব্যাংক এসবের অপব্যবহার, প্রশাসনকে ধ্বংস করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করে আজকের অবস্থানে আমরা এসেছি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, অনেকেই এই পরিবর্তনটাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টায় ছোটোখাটো ইস্যু নিয়ে গোলযোগ সৃষ্টি করছে। তবে আমরা চাই না দেশে আবার কোনও অস্থিতিশীলতা আসুক। বিএনপি মহাসচিবও মন্তব্য করেন, রবীন্দ্রনাথ যখন আর্মীন আসতেন, তখন তিনি কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা ও সংকটে দেখে ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন, কৃষিকে আধুনিক করার নানা উদ্যোগ নেন। রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গান ও অন্যান্য কবিতাগুলো বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বিশ্বমানবতার কবি, যার ব্রত সত্য, সৌন্দর্য ও মানবতার উন্নয়ন। রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, বিভিন্ন সংসদ সদস্যসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। আলোচনা শেষে শিল্পীরা আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। দিনভর এই উৎসবমুখর পরিবেশে হাজারো দর্শক ও রবীন্দ্রপ্রেমী ভিড় করেন পতিসরে, কবির স্মৃতিবিজড়িত এ অঞ্চলে মনে প্রাণে আবেগে এক নতুন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।