বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আর্থিক খাতসহ সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক সেক্টরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন বিএসআইসির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন। সেই সঙ্গে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ও বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি কোনো রাজনৈতিক নিয়োগ বা চাপ এখানে কাজ করবে না; প্রতিষ্ঠানটি শতভাগ পেশাদার মানদণ্ডে পরিচালিত হবে। যে মূলধন দিয়ে বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি যাত্রা শুরু করেছে, ভবিষ্যতে তা আরও বাড়ানো হবে বলেও তিনি জানান। এটা কেবল একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান নয়, দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে দৃশ্যমান করে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।

তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের সামনে সবচেয়ে বড় দুটি প্রতিবন্ধকতা হলো তহবিলের অভাব এবং জামানত দিতে না পারা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুইটি বাধাই দূর করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া হবে স্বচ্ছ, দক্ষ ও পেশাদার।

মন্ত্রী আরও বলেন, এই উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টোর সঙ্গে সরাসরি সমন্বিত। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগিয়ে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। বিশেষত ক্রিয়েটিভ ইকোনমির মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহরের যুবসমাজকে অর্থনীতির মূল ধারায় আনা হবে।

আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরে আনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা কিছু কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি; তাই পুঁজিবাজারে সংস্কার ও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক পরিবর্তন আনার দিকে এগোচ্ছি। বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারের জন্য দক্ষ ব্যক্তিদের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দেশি-বিদেশি বড় ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা এবং বিভিন্ন দাতা সংস্থা আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। দেশের ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের আন্ডার-ক্যাপিটালাইজেশন দূর করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অবশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই স্টার্টআপ কোম্পানি শুধু ব্যাংকিং খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে। অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পকে সফল করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতি সমর্থন দেবে। দেশের বিভিন্ন ব্যাংক যৌথভাবে যে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল উদ্যোগ নিয়েছে, তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথ খুলে দেবে।