বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মন্ত্রী ছাড়ার এলাকার উন্নয়ন কি হবে না? গোলাম পরওয়ারের প্রশ্ন

প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা ছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলে কি প্রকৃত উন্নয়ন হবে না? এই প্রশ্ন গত শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগের কেন্দ্রীয় দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার তুলে ধরেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘যে এলাকার নেতারা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা আইনমন্ত্রী হবেন না, সেই এলাকার কি প্রকৃতভাবে উন্নয়ন হবে? উন্নয়নের বৈষম্য দূর করার জন্য জরুরি হলো জাতীয়ভাবে জরিপ চালানো, কোথায় রেল বা সড়ক যোগাযোগের প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা। মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে সরকারের দায়িত্ব পালন করা উচিত।’ তিনি যোগ করেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সময়কার স্মৃতি আমাদের মনে রাখতে হবে। হাজারো মানুষের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে, কিন্তু এখন পুনরায় বৈষম্যমূলক সমাজ গড়ে তোলা হচ্ছে। একদিকে রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতায় এসেও বিচারবোধে লুকোছেন না, বরং ইনজাস্টিসের পরিবর্তে ইনজাস্টিস চালাচ্ছেন। উন্নয়নের নামে সমতার বদলে আগের মত বৈষম্য চালু রাখা হচ্ছে, যা শহীদদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।’ দেশের রেল যোগাযোগের ক্ষতিগ্রস্ত পরিস্থিতি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দুর্নীতিকে এর জন্য দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশ যেখানে রেল যোগাযোগে সাফল্য পাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশে এই খাতটা পিছিয়ে পড়ছে। এখনো আমরা এ খাতের আধুনিকায়নে সফল হইনি। ভবিষ্যতের বাজেটে প্লে-স্কেল, রেল শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবি পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চাই।’ তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ এখন থেকে নিজস্ব সিদ্ধান্তে চলবে এবং বিদেশি শক্তির চাপ বা রিমোট কন্ট্রোলের অধীন হবে না, কারণ দেশকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম করতে হলে সব ধরনের বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। শ্রমিক সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়নের ওপর আঘাতের জন্য সরকারকে কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকের ট্রেড ইউনিয়ন নিয়ে বলা হয় গণতন্ত্রের কথা, কিন্তু বাস্তবে ট্রেড ইউনিয়ন সংকোচিত করে দেয়া হয়েছে। একটা কারখানায় তিনটির বেশি সংগঠন রেজিস্ট্রেশন নিতে পারবে না, যা শ্রমিক ও মালিকের মধ্যকার ন্যায্য আলোচনা ও দাবি দাখিলের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। আমি দাবি জানাই, বড় কারখানার জন্য আরও বেশি সংগঠনের অনুমোদন দিতে হবে, যাতে শ্রমিকরা তাদের দাবি সহজে তুলতে পারে, সংগঠনের নেতাদের সংখ্যা বেশি হলে সম্যকভাবে আলোচনা ও দাবি আদায় সম্ভব হবে।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি দেশের উন্নয়ন, শ্রমিক অধিকার ও সরকার পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে জোরালো বার্তা দেন।