শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের সফল অভিযান: করিম শরীফ বাহিনীর ৩ সদস্য আটক, অস্ত্র-গুলিসহ ৪ জেলে উদ্ধার

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের গভীরে জলদস্যু ও বনদস্যু দমনে কোস্টগার্ড আরও এক বড় সফলতা অর্জন করেছে। সুন্দরবনের পূর্ব বন বিভাগের শ্যালা নদীর মরা চানমিয়া খালী অঞ্চলে গত ১৩ মে রাতে কোস্টগার্ডর একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত ‘করিম শরীফ বাহিনী’-এর তিনজন সক্রিয় সদস্যকে আটক করে। একই সঙ্গে দস্যুদের কাছ থেকে ৪ জন জেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও যোগাযোগ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলে আজ (১৫ মে) মিডিয়াকে কোস্টগার্ড কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন নিশ্চিত করেন।

গোপন সূত্রের তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত ইঞ্জিনচালিত বোট নিয়ে টহলরত কোস্টগার্ডের বিশেষ দল শ্যালা নদীর ওই মরা খালের মুখে অবস্থান নেয়। ভোরারাতের অন্ধকারে বনের ভেতর গোপন থাকা দস্যুদের উপস্থিতি টের পেয়ে কোস্টগার্ড এগোলে তারা আচমকা চারদিক থেকে বোট ও জওয়ানদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোস্টগার্ডও আত্মরক্ষার প্রয়োজনে পাল্টা গুলি চালায় এবং প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী তীব্র বন্দুকযুদ্ধের পর এক পর্যায়ে দস্যুরা পিছু হটতে শুরু করে।

ঘটনাস্থল অনুসন্ধান করে কোস্টগার্ড বন বিভাগের সহায়তায় জঙ্গলের কাঁদা ও নতুন ঘিষে ঢুকে তল্লাশি চালায়। বনদস্যুদের গহীন স্থানে ধাওয়া করে বাধা পেরিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটককৃতদের নাম পরিচয় জানতে পারে— মোহাম্মদ মেহেদী হাসান (২৫), মোহাম্মদ রমজান শরীফ (১৯) ও মোহাম্মদ এনায়েত মিয়া (২৫)। তাদের বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ ও ভাঙ্গা থানার ফরিদপরে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি ও জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করত।

অস্ত্র ও সামগ্রীর তল্লাশিতে উদ্ধার করা হয়েছে ৩টি একনলা বন্দুক, ১টি সচল পিস্তল, ৪৯ রাউন্ড তাজা বন্দুকের গুলি, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগান গোলা (ছরড়া), ২টি উচ্চক্ষমতার ওয়াকিটকি সেট এবং ৪টি ওয়াকিটকি চার্জার। তল্লাশির এক পর্যায়ে বন বিভাগের সহায়তায় হাত-পা বেঁধে কঠোর পাহারায় থাকা ৪ জন সাধারণ জেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক ভাষ্য অনুযায়ী এই জেলেদের কয়েক দিন আগে অপহরণ করা হয়েছিল এবং তাদের পরিবারের কাছে বড় অঙ্কের মুক্তিপণ দাবির প্রস্তুতি ছিল।

কোস্টগার্ডের লেফটেন্যান্ট ইকরা মোহাম্মদ নাসিফ জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে সুন্দরবনে অবৈধ অনুপ্রবেশ, সরকারি কাজে বাধা, কোস্টগার্ডের ওপর গুলিবর্ষণ, অবৈধ অস্ত্র রাখাসহ ডাকাতি এবং অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র এবং অন্যান্য মালামাল বন্দোকেও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত যাচাই-বাছাই শেষে স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হবে।

কোস্টগার্ড জানায়, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখা এবং জেলে, বাউয়ালী ও মৌয়ালীদের নিরাপদভাবে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। এখনও পরবর্তী তল্লাশি ও অভিযানের কাজ অব্যাহত আছে এবং বনাঞ্চল পরিষ্কার করার লক্ষ্যে যৌথভাবে পদক্ষেপ জোরদার করা হবে বলে বাহিনী জানায়।